একাত্তর বাংলাঃ-
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য ২৬টি আসন ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে কথা বলার সময় এই তথ্য জানান দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।
ছাড় দেওয়ার কারণে ২৫টি আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মো. ইমদাদুল হকের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ আসনে লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থিতা তুলে নেন মো. নাসিরুল ইসলাম খান। এখানে জাপার প্রার্থী মো. মুজিবুল হক চুন্নু।
যে ৩২ আসনে ছাড় দিল আওয়ামী লীগযে ৩২ আসনে ছাড় দিল আওয়ামী লীগ
রংপুর-১ আসনে মো. রেজাউল করিম রাজুর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ আসনে লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন হোসেন মকবুল শাহরিয়ার। রংপুর-৩ আসনে প্রার্থিতা তুলে নেন তুষার কান্তি মণ্ডল। এখানে জাপার প্রার্থী জি এম কাদের। নীলফামারী-৩ আসনে মো. গোলাম মোস্তফার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ আসনে লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন রানা মোহাম্মদ সোহেল। নীলফামারী-৪ আসনে প্রার্থিতা তুলে নেন মো. জাকির হোসেন বাবুল। এখানে জাপার প্রার্থী আহসান আদেলুর রহমান।
এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনে প্রার্থিতা তুলে নেন মো. জাফর আলী। এখানে জাপার প্রার্থী পনির উদ্দিন আহমেদ। কুড়িগ্রাম-১ আসনে মো. আছলাম হোসেন সওদাগরের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ আসনে লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন এ কে এম মুস্তাফিজুর রহমান। গাইবান্ধা-১ আসনে প্রার্থিতা তুলে নেন আফরুজা বারী। এখানে জাপার প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী। গাইবান্ধা-২ আসনে মাহবুব আরা বেগম গিনির প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ আসনে লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন মো. আব্দুর রশিদ সরকার।
ঢাকা-১৮ আসনে মোহাম্মদ হাবিব হাসানের জায়গায় শেরীফা কাদের, বগুড়া-৩ আসনে মো. সিরাজুল ইসলাম খান রাজুর জায়গায় মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মো. শাহজাহান আলমের জায়গায় মো. আব্দুল হামিদ, চট্টগ্রাম-৮ আসনে নোমান আল মাহমুদের জায়গায় মো. সুলেমান আলম শেঠ, বগুড়া-২ আসনে তৌহিদুর রহমান মানিকের জায়গায় শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মো. আসাদুজ্জামান বাবুর স্থলে মো. আশরাফুজ্জামান, ফেনী-৩ আসনে মো. আবুল বাশারের জায়গায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জাপা প্রার্থী।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনে মোহাম্মদ আবদুস সালাম আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করছেন না। এখানে জাপার প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচন করছেন না মো. আফজাল হোসেন, জাপা প্রার্থী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। ময়মনসিংহ-৫ আসনে মো. আব্দুল হাই আকন্দ নৌকা পেলেন না, জাপা প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ (মুক্তি)। ময়মনসিংহ-৮ আসনে থাকছেন না মো. আব্দুছ ছাত্তার। এখানে জাপা প্রার্থী ফখরুল ইমাম। পিরোজপুর-৩ আসনে মো. আশরাফুর রহমান নৌকা পেলেন না, জাপা প্রার্থী মো. মাশরেকুল আজম (রবি_।
হবিগঞ্জ-১ আসনে ডা. মো. মুশফিক হুসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এখানে জাপা প্রার্থী মো. আব্দুল মুনিম চৌধুরী। মানিকগঞ্জ-১ আসনে মো. আব্দুস সালাম নির্বাচনে নেই, সেখানে জাপা প্রার্থী জহিরুল আলম রুবেল। বরিশাল-৩ আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সরদার মো. খালেদ হোসেন। এখানে জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করছেন সেলিম ওসমান।
নির্বাচনের পরিবেশ সন্তোষজনক উল্লেখ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এ ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আশ্বাসে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সরকার কমিশনকে সহযোগিতা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মুজিবুল হক চুন্নু আরও জানান, এই নির্বাচনে ২৮৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। তবে কিছু জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে।
গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল রোববার। সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার শুরু হবে বলে জানা গেছে।

