একাত্তর বাংলাঃ বিএনপির ভাঙন চান না, বরং তাদের নির্বাচনে দেখতে চান। বিএনপি অংশ নিলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল রেডিসনের সামনে বিআরটিএর অভিযান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের পর বিএনপি ভাঙনের মুখে আছে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছিলেন। এ বিষয়য়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি একটা কথা বলি, আমি চাই না বিএনপি ভাঙুক। একটা দল, বড় দল ভেঙে যাবে এটা আমরা চাই না, সেই চেষ্টাও করবো না। বিএনপি ভাঙার জন্য আমি তো মনে করি তারা নিজেরাই দায়ী হবে।’
বিএনপির সাংগঠনিক সংকট ঘনীভূত হবার জন্য তারেক জিয়াই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে চান উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বিএনপির মতো একটা প্রতিদ্বন্দ্বী দল চাই। নির্বাচন তো অনেকেই করবে। বিএনপি একটা বড় দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মজা না থাকলে নির্বাচনে মজা নেই। আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক এবং নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক।’
বিএনপির আন্দোলনের কৌশলের সমালোচনা করেন এ আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি বলেন, ‘তারা যেভাবে আন্দোলনের হাঁক ডাক দেন… জনগণ সাড়া না দিলে তো গণআন্দোলন হবে না। নয় বছর তো তারা বার বার ডাক দিয়েছেন কিন্তু জনগণ সাড়া দেয়নি। যে আন্দোলনে তারা নিজেরাই অংশ নেন না সেখানে জনগণ কি করে আসবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ভেবেছিলো, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। ওই আগের সিপাহী জনতা জেগে ওঠো… তারা মনে করেছে এখনও দেশের সেই অবস্থা আছে। বেগম জিয়ার জন্য লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নামবে বলে তারা ভেবেছিলো, সেখানে শত শত মানুষও তো রাস্তায় নেই।… বাকি দিনে সবাই নির্বাচনের মুডে চলে যাবে। এখন আর কেউ আন্দোলনের মুডে নেই।’
বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাবার পর বিএনপি নেতারা মিছিল মিটিংয়ে থাকেন না বলেও দাবি ওবায়দুল কাদেরের।
তিনি বলেন, ‘নেতারা যদি আন্দোলন ডেকে এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে থাকেন, আরাম আয়েশে দিন কাটান আর মাঝে মাঝে মোবাইল করে পুলিশের গতিবিধির খবর নেন, তাহলে আন্দোলন কিভাবে সম্ভব?
আমরা বিএনপির আমলে আন্দোলন করেছি, আমাদের নেতারা রাস্তায় ছিলেন। এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বিএনপির নেতারা আন্দোলনে থাকেন না।’
দেশের মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে খুশি, তাই বিএনপির আন্দোলনে তাদের কোন আগ্রহ নেই। এছাড়া বাংলাদেশের জনগণ মনে রাখতে পারে এমন কোনো কাজের দৃষ্টান্ত বিএনপির নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের কারণে আদালত থেকে খালেদা জিয়ার রায়ের কপি পেতে দেরি হচ্ছে বলে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মওদুদ আহমেদ কি বললেন, সেটা নিয়ে এদেশের মানুষ সবসময় একটা সংশয়ে থাকে।
কারণ, তিনি নিজেই তো মৃত ব্যক্তির ভুয়া কাগজ দেখিয়ে অবৈধ বাড়িকে বৈধ করতে চেয়েছিলেন।
মওদুদ আহমেদের মতো বিজ্ঞ আইনজীবী থাকতে আদালতের কাগজ পেতে কেনো দেরি হচ্ছে? এটার জবাব তো আর সরকার দেবে না। আদালতের কাছেই এই জবাবটা খুঁজুক মওদুদ আহমেদ।’

