একাত্তর বাংলাঃ অনুপযোগী মাঠে দায়সারাভাবে চলছে মেয়েদের প্রথম বিভাগ ক্রিকেট। ধুলোবালিতে ক্ষতি হচ্ছে ক্রিকেটারদের স্বাস্থ্যের। দলগুলোর মধ্যে আছে অসম প্রতিযোগিতা। সময় সংবাদে এমন সব অসন্তোষের কথা জানিয়েছে ক্লাবগুলো। নারী ক্রিকেটকে যথাযথ গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রিকেটাররা। মাঠ সঙ্কটের কথা স্বীকার করলেও বিসিবি বলছে উন্নত হচ্ছে নারী ক্রিকেট। এবছরই অনূর্ধ্ব ১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের মাধ্যমে জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটার তুলে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বোর্ড।
কলাবাগান মাঠ। ঘাসের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। ধুলোবালির মধ্যেই চলছে মেয়েদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট। মাঠের বাউন্ডারি নির্ধারণে মানা হয়নি নিয়ম কানুন। যেন দায়সারাভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারলেই বাঁচে ক্রিকেট বোর্ড। তাই অভিযোগের শেষ নেই ক্লাবগুলোর। এতে বিসিবির উদাসীনতাও দেখছেন ক্লাব কর্মকর্তারা।
আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক এস এম এ মান্নান বলেন, ‘এই মাঠে ক্রিকেট খেলাটা দুরূহ ব্যাপার। বিশেষ করে সব সময় ধূলো উড়ে। আর ধুলোর মধ্যে খেলার কারণে নানা রকমের নারী ক্রিকেটরা নানা রকম অসুখ পড়ছেন।’
ইন্দিরা ক্রিকেট ক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমরা ছেলেদের খেলা নিয়ে সার্বক্ষণিক সোচ্চার থাকি। সেই তুলনায় আমরা মেয়েদের প্রতি সেই রকম সোচ্চার হতে দেখি না।’
রাস্তার পাশে খোঁড়াখুঁড়ি। গাড়ীর হর্ন। সব মিলিয়ে অস্বাস্থ্যকর এক পরিবেশ। নারী ক্রিকেটাররাও জানালেন তাদের অসন্তুষ্টির কথা। যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগ তাদের কণ্ঠে। সুযোগ সুবিধার অভাবতো আছেই।
নারী ক্রিকেটার জানান, ‘সবাই ইনজুরিতে পড়ছেন। ফিল্ডিং করা যায় না। হাত-পা ছেড়ে যায়।’
মাঠ সঙ্কটের কথা স্বীকার করেছে বিসিবি। কিন্তু, নারী ক্রিকেট যে অবহেলিত। তাতে খুব বেশি কিছু যেনও করার নেই বোর্ডের। সেটা স্পষ্ট হলো এ কর্মকর্তার মুখে। স্বীকার করলেন আছে আরো নানা সমস্যা। এই যেমন, তেমন একটা ওঠে আসছেন প্রতিভাবান ক্রিকেটার। দলগুলোর মধ্যে নেই সমান প্রতিযোগিতা। এজন্য নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি বিসিবির।
বিসিবি নারী ক্রিকেট উইংয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মাঠের সঙ্কট রয়েছে। তবে এই জন্য তাদের বসিয়ে রাখলে আমাদের তাদের ক্ষতি হতো। সেই দিক বিবেচনা করে আমরা খেলা চালিয়ে নিচ্ছি।’
ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দেয়াতো দুরের কথা। শক্ত কাঠামোর উপরও দাঁড়াতে পারেনি দেশের নারী ক্রিকেট। তাই সময় এসেছে নতুন করে ভাবার।

