একাত্তর বাংলাঃ সরকারী নীতিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে অদৃশ্য ক্ষমতাকে পুজি করে জোড় পূর্বক পদ দখল করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ার দখল করে আছেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল কারিগরি ও বানিজ্যিক কলেজের জুনিয়র প্রভাষক মোঃ তমিজ উদ্দিন। ফলে শিক্ষার মানে ধস, শৃংঙ্খলা ভংগ ও অনিয়মে বাসা বেধেঁছে রন্দে রন্দে।
সূত্র জানায়, তার এই জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের বিষয়ে কলেজের জেষ্ঠ্য শিক্ষকরা শিক্ষা অধিদপ্তর সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করায় তার বিরুদ্ধে বার-বার অধ্যক্ষের আসন ছেড়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়ার পরও অধ্যাবধি স্ব-পদেই বহাল থাকছেন মোঃ তমিজ উদ্দিন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়- ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ত্রিশাল কারিগরি ও বানিজ্যিক কলেজে ৪(চার) জন সিনিয়র প্রভাষক থাকা সত্ত্বেও জোরামলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আসনটি দখলে রয়েছেন তিনি। অথচ ১৯৯৮ সালের ২৯শে এপ্রিল প্রভাষক পদে যোগদান করেন মোঃ আখতার হোসেন, একই সালের ৩০শে এপ্রিল প্রভাষক পদে মোঃ মোখলেছুর রহমান, ৩০শে আগষ্ট আব্দুল হাদী, ২০০০ সালের ১৬ই আগষ্ট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। সিনিয়র এসব প্রভাষকরা কলেজে থাকা সত্ত্বেও ২০০০সালের ২০শে আগষ্টে যোগদানকারী প্রভাষক মোঃ তমিজ উদ্দিন জেষ্ট্যতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করায় শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের দেখা দেখা দেয়।
পরে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের পেক্ষিতে গত ৩রা সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৫৭.০০.০০০০. ০৫১.০১.০০৬.১৮.২৮৫ নং স্বারকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি নির্দেশনা প্রদান করলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ৫ই নভেম্বর ২০১৮ইং তারিখে ৫৭.০০.০০০০.০৯১.২০.০০৭.১৮-৯৯১ স্বারকে জুনিয়র প্রভাষক মোঃ তমিজ উদ্দিন কে অপসারণ করে সিনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদানের নির্দেশ দেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে।
জানা যায়, ২০১৪ সন থেকে প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা কমিটি না থাকায় পদাধীকার বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
গত ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ত্রিশাল উপজেলা নির্বহিী কার্যালয়ের- ০৫.৪৫.৬১৯৪.৫৮.০০৪.০০৫.১৭.৬৫৯ নং স্মারকে জ্যেষ্ঠতম শিক্ষককে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন। তবে তিনি সেই নির্দেশনাকে না মেনে প্রভাব খাটিয়ে বহাল তবিয়তের মাধ্যমে তিনি বিধিবহির্ভূত ভাবে জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে গত ২০১২ খ্রিঃ ৯ জুলাই শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয় অধ্যক্ষের অনুপস্থিতে তার দায়িত্বে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ রয়েছে –ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ তমিজ উদ্দিন র্দীঘদিন যাবৎ নিজ স্বেচ্ছা চারিতায় তিনি সরকারী বিধি-বিধানকে তোয়াক্কা না করে ক্রমাগত ভাবে কলেজের তহবিল তছরূপ বা আত্মসাৎ করে আসছেন ।
বিধি মোতাবেক আদায় কৃত অর্থ দৈনন্দিন ব্যাংকে জমা না করে নিজে ব্যবহার করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের এক স্মারকে উক্ত বিষয়ে গত ২০১৮ সালের ২৫শে জুলাই ৮১১নং- স্মারকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে সরেজমিনে তদন্ত করে তিন কার্য-দিবসের মধ্যে প্রতিবেদনের নির্দেশ দেন।
শিক্ষা অফিসার গত ২০১৮ সালের ২৯শে আগষ্ট সরেজমিনে তদন্ত করলেও কোন প্রতিবেদন দাখিল করেন নি বলে জানা যায়। তবে শিক্ষকরা জানান-ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের, দুর্নীতি অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রভাব খাটিয়ে ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে নাজেহাল হয়রানির করছেন।
স্থানীয় গন্যমান ব্যক্ত্যি, শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির কবল থেকে মুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

