একাত্তর বাংলাঃ সরকারের পাশাপাশি পাটের সুদিন ফেরাতে বেসরকারি খাতের উদ্যোগ প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে প্রণোদনা দেয়া হবে ব্যবসায়ীদের।
বুধবার (৬ মার্চ) সকালে জাতীয় পাট দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বক্তব্য রাখেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো মূল্যে সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ফেরাতে হবে।
সোনালি আঁশ পাটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী, পরিবেশবান্ধব এই ফসলটির সঙ্গে দেশের ৪ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। বর্তমানে দেশের ১৯টি পণ্যে পাটের মোড়কীকরণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি, দেশের বাজারে এখন প্রতিবছর ১৫০ কোটি বস্তার চাহিদা তৈরি হয়েছে।
অর্থকরী এই ফসলটির উজ্জ্বল সম্ভাবনা তুলে ধরতে, প্রতিবছরের ৬ মার্চ পালিত হচ্ছে জাতীয় পাট দিবস হিসেবে। এ বছর তৃতীয় বারের মতো পাট দিবসের আয়োজনে যোগ দিতে বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আসেন প্রধানমন্ত্রী। ১৪ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার তুলে দেন এই খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে।
দিবসটি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলোর বিমাতাসুলভ আচরণেই ধ্বংসের মুখে পড়েছিল পাটখাত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে যারা ক্ষমতার দখলকারী, তাদের ভেতরে একটা বৈমাত্রিক আচরণ পাটের প্রতি ছিল। তারা যেন পাট শিল্পটা ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। পাটের কোনো কিছুই কিন্তু ফেলা যায় না। সবই কিন্তু কাজে লাগানো যায়। তবে এর জন্য গবেষণা প্রয়োজন এবং আমরা কিন্ত সেটা করে যাচ্ছি।
পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত সোনালী ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পাটশিল্পে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, পাটের থেকে যে নতুন একটা পলিথিন ব্যবহার করা হয়েছে। যেটা ব্যাপকভাবে আমরা উৎপাদন করতে পারি এবং বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। আমরা নিজেদের দেশে ব্যবহার করতে পারি। বেসরকারি খাত যত বেশি এগিয়ে আসবে। তার জন্য আমরা অন্য সব যেমন প্রণোদনা দিচ্ছি, এখানে আমরা প্রণোদনা দিবো। যাতে করে এই খাতের মধ্য দিয়ে তারা ব্যবসা বাণিজ্য করে, আমরা দেশের পণ্য গুলোকে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি।
পরে পাট পণ্যের বহুমূখীকরণে উদ্বুদ্ধ করতে আয়োজিত পাট পণ্যের প্রদর্শনী ও মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন সরকার প্রধান।

