সুমন ভৌমিকঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে অপরাধ দমনে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ বাহিনীকে জিরো টলারেন্সে রেখেছেন এসপি শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম।
পুলিশ বাহিনীতে সৎ নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা রয়েছেন যারা জীবন বাজি রেখে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদেরই অন্যতম-ময়মনসিংহের সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম।
তিনি যখন ময়মনসিংহে যোগ দেন তখন জেলায় ছিল ক্রান্তিকাল। সেই মুহুর্তে ময়মনসিংহে দায়িত্ব পেয়েই খুব দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন চৌকষ পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন। তারপর দায়িত্বশীল কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের গুণে বার বার সাফল্যের নজির রেখেছেন। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রেখেছেন। আস্থা অর্জন করেছেন জনগণের। সাফল্যের বরপুত্র হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন।
পরিসংখ্যান মতে, তিনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বহুবার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ময়মনসিংহ রেঞ্জে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। সাফল্যের মাপকাঠিতে তিনি সবসময় অগ্রভাগে। ময়মনসিংহবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। ইতিপূর্বে অন্য কেউ এমন বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি সবসময় রয়েছেন বিতর্কের উর্ধে। পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে তার ভূমিকা ময়মনসিংহবাসীর কাছে প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
গত ১৪ আগষ্ট ২০১৮ ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দেন তিনি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় মাসিক অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, মামলা রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতারে সফলতার জন্য রেঞ্জে ৩ বার পুলিশ সুপার হিসাবে চ্যাম্পিয়ান পুরস্কার নিয়েছেন। ক্লিন ইমেজের অধিকারী হিসাবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। এর আগেও তিনি কুমিল্লায় পুলিশ সুপার থাকাকালে সাফল্যের নজির রেখে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
পুলিশ বিভাগে নম্র,ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসাবে নিজেকে তুলে এনেছেন অনন্য উচ্চতায়। ময়মনসিংহ জেলাকে গড়ে তুলছেন নিরাপদ জোন হিসাবে। তার নেতৃত্বে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ অপরাধ নিয়ন্ত্রন ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।
ময়মনসিংহ পুলিশ বাহিনীকে দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করার ফলে ছিনতাইকারী, অপহরণকারী, চাঁদাবাজী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত গ্রেপ্তারে দ্রুত সফলতা পেয়েছে। ফলে জেলার ১৪টি থানার সাধারণ জনগণের মধ্যে পুলিশ বিভাগের প্রতি স্বস্তি ও বিশ্বাসের সঞ্চার ঘটেছে।
ময়মনসিংহ জেলায় দায়িত্বশীল নির্দেশনায় মাদক, অস্ত্র উদ্ধারসহ একাধিক হত্যা মামলার অজ্ঞাত আসামীর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। এ সময়ে রাঘব-বোয়ালসহ সহস্রাধিক মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর জেলা পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অপরাধীদের কাছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ একটি আতংক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
ময়মনসিংহ জেলার সুযোগ্য পলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশে জেলার ১৪টি থানায় জঙ্গী দমন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, বাল্য বিবাহ রোধ, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের দমন, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও ওয়ারেন্ট তামিলে বিশাল সাফল্য দেখিয়েছে জেলার পুলিশ বাহিনী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ উপজেলা পরিষদ ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কালে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলাসহ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রেখে কৃতিত্বের নজির রেখেছেন। অন্যদিকে শিক্ষা ও সংস্কৃতি নগরী ময়মনসিংহ, সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন এর সাংস্কৃতিক প্রতিভায় ময়মনসিংহবাসী মুগ্ধ। তিনি সুরেলা কন্ঠের অধিকারী।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৬৫ কিলোমিটার রাস্তায় ডাকাতি, দূর্ঘটনা ও হাইওয়েতে অবৈধ যান বন্ধের জন্য সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন অফিস সংলগ্ন সিসি ক্যামেরার কন্ট্রোলরুম নজরদারি রাখেন। নগর এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও টহল পুলিশের তৎপরতা থাকায় অপরাধীর আনাগোনাও কমেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন ময়মনসিংহে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজিয়েছেন। যার ফলে অতিদ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার, মামলার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলশ্রুতিতে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীদের ৮০ শতাংশ জেলে।
ময়মনসিংহ জেলায় রোড ডাকাতি নেই। হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া থানার সীমান্তবর্ত্তী এলাকায় চোরাকারবারীদের পতন ঘটেছে। ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সুপার শাহ আবিদ হোসেন যোগদান করার পর থেকেই ময়মনসিংহবাসী যেন এক নিরাপত্তার চাঁদরে বসবাস করছে।
জেলায় যানজট নিরাসনে তিনি অপ্রতিরোধ্য। পবিত্র রমজান মাসে ময়মনসিংহবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সাবর্ক্ষনিক নজরদারী ও টহলাভিযান জোরদার করেছেন। অপরাধীদের গ্রেফতারে সাদা পোষাকে পুলিশের চৌকস টিম মাঠে নামিয়েছেন।
থানার ষ্টাফদের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি খুবই পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি, সঠিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হন না। যার ফলশ্রুতিতে ময়মনসিংহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।
ময়মনসিংহের সুযোগ্য পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম এর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক কালে জেলা পুলিশের অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে জেলার একাধিক চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার। যেমন ভালুকায় শিশু ফারজানা হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামী গ্রেফতার। ফুলবাড়ীয়ার সোহান হত্যার রহস্য উদঘাটন ও ৪ আসামী গ্রেফতার। মুক্তাগাছায় থানাধীন বানিয়াকাজী গ্রামস্থ তাইজুল মাষ্টারের ফিশারীর পাড়ে অজ্ঞাতনামা গলাকাটা মৃত দেহ উদ্ধার ও হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, আসামী গ্রেফতার। গফরগাঁও থানার রিয়াদ হত্যার মামলার আসামী গ্রেফতার। তারাকান্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবুল কালাম এর একমাত্র ছেলে “মেহেদী হাসান গোলাপ” ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশ এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীকে গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে সংঘবদ্ধ অপরাধকারী চক্র পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে। জজ কোর্টে চাকুরী দেওয়ার নামে প্রতারনা চক্রের ২ প্রতারক গ্রেফতার। প্রতারক চক্র ১১ যুবকের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। ময়মনসিংহ সদরে মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তনকারী চক্রের ৩ চোরকে ৫ টি মোবাইল সহ গ্রেফতার করা হয়। অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে তিনি জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষ ভাবে কাজে লাগিয়েছেন।
সূত্র থেকে জানা গেছে, শাহ আবিদ হোসেন ময়মনসিংহ জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তিনি জেলার প্রতিটি থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
সাফল্যের বরপুত্র ময়মনসিংহের এসপি শাহ আবিদ হোসেন
Date:

