সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১১নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ্জাহান সরকার সাজু’র নির্বাচনী জনসভা ২৬ নভেম্বর (শুক্রবার) বিকাল ৪ ঘটিকায় ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে ঘাগড়া বাড়েরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত নির্বাচনী জনসভা ময়মনসিংহ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডঃ আবুল কাশেম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত।
শাহ্জাহান সরকার সাজু’র নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু সাঈদ দীন ইসলাম ফখরুল, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসাইন, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুস সালাম সরকার, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের আহবায়ক আজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক আখেরুল ইমাম সোহাগ, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান সরকার, সাধারন সম্পাদক মোশারফ হোসেন বাচ্চু, সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, ভাবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার সোহেল, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেল পাঠান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরকার মোহাম্মদ সব্যসাচী সহ প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসময় জনপ্রতিনিধিরা ও নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
১১নং ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ্জাহান সরকার সাজু’র নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, এই ঘাগড়া ইউনিয়ন, দাপুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এই ইউনিয়নকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত যারা করেছে তাদেরকে আমি স্মরণ করছি। আজকে আমি এসেছি শাহজাহান সরকার সাজু’র জন্য, যাকে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত করেছেন।
তিনি বলেন, সাজু ভাইকে আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে ভোট দেয়ার দরকার নেই। তাকে ভোট দিতে হবে এই জন্যই উনি জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। জননেত্রী শেখ হাসিনা ১২ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে এই দেশের সার্বিক চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। ঘাগড়া ইউনিয়নের মানুষ শহর থেকে খুব সন্নিকটে থাকেন বলেই আপনারা উন্নয়ন সবই দেখেন। বিগত বছরগুলোতে আপনাদের অঞ্চলের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার উন্নয়ন হয়েছে কিনা তা আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করুন। আপনাদের অঞ্চলে প্রচুর কৃষিজমি এবং কৃষক রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে কৃষকদের সারের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকরা নিহত হয়েছে। কিন্তু আজ আপনারা ঘরের দুয়ারে সার-ডিজেল পান। আজকে সারা বাংলাদেশের মানুষ তথা ঘাগড়া অঞ্চলের মানুষ বয়স্ক ভাতা পান, বিধবা ভাতা পান, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান। আপনারা ভিজিএফ চাল পান, ৪০ দিনের কর্মসূচী পান, ৬০ দিনের কর্মসূচী পান। এই গ্রামের মানুষের জন্য এইগুলিই প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, আজকে এখানে যে বাজারে আমরা দাঁড়িয়ে আছি-এখানে প্রতি ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ। আমাদের পিতারা বা এখানে যারা চল্লিশোর্ধ তারা কুপির বাতিতে কিংবা হারিকেনের বাতিতে পড়াশোনা করতেন। কিন্তু আজকে আপনাদের সন্তানেরা পড়াশোনা করে ঝকঝকে বিদ্যুতের আলোয়। এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান। আপনারা যদি রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কথা বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলেন, তবে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করেছেন বিগত ৪০ বছরে তা কেউ করেনি।
এসময় তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পিতা-মাতা, ভাই-বোন হারিয়ে, সমস্ত লোভ লালসার উর্ধে উঠে পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জননেত্রীর উন্নয়নের রাস্তাকে যদি প্রশস্ত করতে হয়, বেগবান করতে হয়, তাহলে প্রত্যেকটি প্রান্তিক অঞ্চলে তার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে হবে। আওয়ামী লীগের একজন চেয়ারম্যান যে অধিকার নিয়ে সরকারের কাছে যা চাইতে পারবে, অন্য মতাদর্শের কেউ অধিকার নিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান বা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপির কাছে কিছু চাইতে পারবেনা। তাই আগামী ২৮ তারিখ আপনাদের নিজেদের উন্নয়নের জন্য, আপনাদের এ অঞ্চলের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য, আপনার সন্তানের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য, রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য, আপনার বিদ্যুতের উন্নয়নের জন্য নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে আপনাদের নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এই হোক আজকের প্রত্যয়।
এসময় তিনি আরো বলেন, প্রিয় ভাইয়েরা যাওয়ার আগে একটি কথা বলতে চাই, আমরা কেউ পরিপূর্ণ মানুষ নই। একজন মানুষের পরিপূর্ণ হতে সময় লাগে। উনি ২বার চেয়ারম্যান ছিলেন। ১০ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে উনি কি করেছেন, কি করেননি এজন্য আগামী ৫ বছর উনাকে সুযোগ দিতে হবে। আমাদের মধ্যে নির্বাচনের আগে প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য অনেক ধরনের কথা বলা হয়। বিশ্বাস করেন শাহজাহান সরকার সাজুকে সরিয়ে অন্য কাউকে যদি আনা হয়, সে কি এর চেয়ে যোগ্য কিনা সেটা আপনারা জানেন না। এর ভরসা কেউ দিতে পারবে না। কারণ চেয়ার মেইকস এ মেন। আপনি চেয়ারে না বসা পর্যন্ত কাউকে যাচাই করতে পারবেনা। শাহজাহান সরকার সাজু দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করছেন এবং যেহেতু ১০ বছর এই চেয়ারে রয়েছেন, তাই উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে নৌকায় ভোট দিয়ে সাজু ভাইকে নির্বাচিত করবেন।

