সুমন ভৌমিকঃ আগামী ২৮ তারিখ ১নং অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে অষ্টধার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এবং ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে কাউনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে ২৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকালে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত নির্বাচনী সভায় অষ্টধার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু বকর মেম্বার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত।

নির্বাচনী সভার মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সাম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সাম্পাদক আশরাফ হোসাইন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডঃ তাজুল ইসলাম খোকন, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগের আহবায়ক আজহারুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক আখেরুল ইমাম সোহাগ, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান সরকার, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান শাহীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার কলি, সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, ভাবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার সোহেল, অষ্টধর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ফরাজী, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেল পাঠান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরকার মোহাম্মদ সব্যসাচী, অষ্টধর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ সহ প্রমুখ। এসময় জনপ্রতিনিধিরা ও নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
১নং অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নৌকার মাঝি এমদাদুল হক (আরমান) এর নির্বাচনী সভার প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, বিগত ৫ বছর আপনারা শেখ হাসিনার উন্নয়নের স্বাদ কতটুকু পেয়েছেন আমরা জানি। কারণ আপনাদের এখানে নেতৃত্বে আমাদের সরকারের কোন প্রতিনিধি ছিলেন না। আমাদের আভ্যন্তরীন কোন্দলের সুযোগে এখানকার প্রতিনিধিত্ব অন্যরা ছিনিয়ে নিয়েছে। অষ্টধার ইউনিয়নের শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী আরমান।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বিগত ১২ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র বাংলাদেশকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছেন। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট থেকে শিক্ষাদীক্ষা সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। কণ্যা সন্তানদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছেন, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত জামাত-বিএনপি আমলে চরাঞ্চলের প্রত্যেকটি মানুষকে সারের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। ডিজেলের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। এই আন্দোলন সারা দেশে হয়েছে এবং আন্দোলন করতে গিয়ে কৃষক ভাইয়েরা বিভিন্ন জায়গায় শহীদ হয়েছেন। কিন্তু আজকে ঘরের দুয়ারে আপনারা সার পান, আপনারা ডিজেল পান, আপনি আপনার ক্ষেত চাষ করতে পারেন।। জননেত্রী শেখ হাসিনা বৃদ্ধ, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

এসময় তিনি বলেন, নৌকা মার্কা বঙ্গবন্ধুর মার্কা, স্বাধীনতার মার্কা, মুক্তিযুদ্ধের মার্কা, শেখ হাসিনার মার্কা। এই মার্কার জন্য আজকে আপনাদের সামনে ভোটের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমাদের সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন বলেছেন উনি উন্নয়নের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ এখানে যিনি জনপ্রতিনিধি ছিলেন তিনি জামাত-বিএনপির। তারা কখনও চায়না উন্নয়নের ছোয়া এলাকায় লাগুক। কারণ তাহলে মানুষ শেখ হাসিনার গুণগান গাইবে। এমনিতেই আপনারা শেখ হাসিনার পাগল, নৌকার পাগল। উন্নয়ন হলে বাদবাকিরাও নৌকার সমর্থক হয়ে যাবেন। যা বিএনপি-জামাত চায়না। তারা এজন্য এলাকার উন্নতি করেনা। কারণ তারা-শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়ন করেনি একথা বলে ভোট চাবে। কিন্তু আমি বলতে চাই আপনারা আকুয়া গিয়ে দেখেন। সেখানে আমার চাচা আফাজ উদ্দিন সরকার কি উন্নতি করেছেন। এটা উনি মন্ত্রীর ভাই বলে নয়। উনি শেখ হাসিনার মনোনীত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বলে সম্ভব হয়েছে। সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাত্র অল্পকিছুদিনে এলাকায় অভূতপূর্ব উন্নতি করেছেন। স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের সদরের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ভাবখালী। ইসলাম ভাই সেখানে চেয়ারম্যান ছিলেন, উনার পর উনার ছেলে সোহেল সেখানকার চেয়ারম্যান। সেখানে কি পরিমাণ উন্নয়ন করেছেন আপনারা গিয়ে দেখেন। আপনারা ভাবখালী থেকে সুতিয়াখালীর রাস্তা দেখে আসেন। মনে হবে আপনি কোন মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এসময় আরো বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নির্বাচিত প্রার্থীরা এভাবে ময়মনসিংহের প্রত্যেকটি অঞ্চলের অভূতপূর্ব উন্নতি করেছেন। শুধুমাত্র এই অষ্টধার ইউনিয়নের মানুষ সেই উন্নয়ন হতে বঞ্চিত। কারণ বিগত দিনগুলোতে সরকারের প্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদে ছিল না। তাই আশা করি এবার ২৮ তারিখ আপনারা কোন ভুল করবেন না। এবার আমাদের নৌকার মধ্যে কোন বিভেদ নেই। গতবার আমরা বিভাজিত ছিলাম। এই বিভাজনের মধ্যেও নৌকার প্রার্থী শাহীন ভাই প্রায় নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন। আজ আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ এই ঐক্য ২৮ তারিখে আমরা প্রমাণ করে দিব আরমানের নৌকা প্রতীককে বিজয়ের মাধ্যমে।

মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, মোজাম্মেল চাচার ছেলে আরমান। এই মোজাম্মেল চাচা আমার পিতার সহপাঠি ছিলেন। এই আরমান ব্যক্তিগত ভাবে অনেক উন্নয়ন করেছেন। যে ছেলে নির্বাচনের মনোনয়নের আগে বিভিন্ন উন্নয়ন করেছে, সে নির্বাচিত হলে আমি কথা দিচ্ছি আপনাদের চাল চুরি করবেনা।

শান্ত বলেন, আরেকটি কথা আরমানের পরিবারকে নিয়ে বলতে চাই। মনোনয়নের আগে অনেকেই আমার কাছে বলেছেন আরমান যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। কিন্তু এই ময়মনসিংহের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আমার পিতা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেছেন “আমার বন্ধু মোজাম (মোজাম্মেল) মুক্তিযোদ্ধা”। অতএব আরমানের রক্তে কোন যুদ্ধাপরাধীর রক্ত নেই। যারা বাংলার মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিল, তারা আজ রাজনীতির আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথে আমাদের আবেগের সম্পর্ক। যে মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা বলি, যে মাটির শস্য খেয়ে আমরা বড় হয়েছি। সেই মাটির সাথে আমরা যদি বেঈমানী করি, সেই মাটির মুক্তিযুদ্ধের সাথে আমরা যদি মিথ্যাচার করি, তবে এই মাটি আমাদের কোন দিন ক্ষমা করবেনা।
এসময় শান্ত বলেন, আরমান জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের স্বাদ নিতে হলে উনার মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে। তাই আপনারা এই অষ্টধার ইউনিয়নের উন্নয়নের জন্য আগামী ২৮ তারিখ শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী আরমানকে নির্বাচিত করে শেখ হাসিনার সকল উন্নয়নকে এই অষ্টধারে ধরে নিয়ে আসবো ইনশাআল্লাহ।
অষ্টধার ইউনিয়নে নির্বাচনী সভার আগে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত একটি মটর সাইকেল এর শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করেন।

