সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহের রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন অর রশিদ (বিপিএম) ১০ অক্টোবর শনিবার ১১ ঘটিকায় সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে রেঞ্জ পুলিশের আয়োজনে ময়মনসিংহ বিভাগের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্সে মতবিনিময় করেন। উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন সনাতন নেতৃবৃন্দের বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আমার মাকে আমরাই পাহাড়া দিবো। মা আমাদের-কাজেই মাকে পাহাড়া দেয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।
রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, করোনায় সামাজিক কর্মকান্ড বিপন্ন করেছে। এবারের প্রেক্ষাপট অন্য রকম প্রেক্ষাপট বিধায় তিনি সীমিত আকারে উৎসব পালন করতে বলেন। করোনা মহামারির কারণে পূজা মন্ডপগুলোতে প্রতিমা বির্সজনের সময় ডাক-ঢোল পিটিয়ে শোভাযাত্রা করা যাবে না এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদ ও মন্দির কমিটিকে আহবান জানান।
তিনি বলেন, ঈদ-পূজা উৎসব আমরা একই সাথে সকলে পালন করি। প্রতিটি পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। পুলিশের পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সেচ্ছাসেবক গঠন করে পূজা মন্ডপের নিরাপত্তা দেয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, এই সেচ্ছাসেবকবৃন্দ ২৪ ঘন্টা পূজা মন্ডপগুলোতে পাহাড়া দিবে। এবারে পূজা মন্ডপে আনসার নিয়োজিত না থাকলেও বিট পুলিশ, পুলিশের মোবাইল টিম, ডিবি পুলিশ ও সাদা পোষাকে পুলিশ নিরাপত্তায় থাকবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপত্তার বিষয়ে বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে পুলিশ সজাগ আছে। তিন স্তর বিশিষ্ট পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। পূজা মন্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দিতে ৫-৭টা পূজা মন্ডপে পুলিশের একটি করে ইউনিট কাজ করবে।
রেঞ্জ ডিআইজ ব্যারিষ্টার হারুন অর রশিদ সনাতন নেতৃবৃন্দদের বলেন, আপনাদের মূল্যবান কথা ও মতামত খুবই গুরত্বপূর্ণ। শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আইজিপি আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। করোনা ঔষধ এখনো আবিস্কার না হওয়ায় পূজার মন্ডপগুলোতে খুবই সতর্ক থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মগুলো মানতে হবে। করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ অবদান রেখেছে। প্রায় ২ হাজার পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না। এক সাথে ২০ জন যাওয়া যাবে না। আপনাদের নিরাপত্তার জন্য সকল ব্যবস্থা করা হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব চ্যালেঞ্জ এর মুখমুখি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও কার্যকারী পদক্ষেপে বাংলাদেশ সফল হয়েছে। ঈদ উৎসবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজ পড়া হয়েছে। একটি জীবন কম নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উৎসব পালন করতে হবে। করোনা মহামারির কারণে ভারতে পূজাগুলো কমিয়ে নিয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পূজা মন্ডপগুলোতে দৃষ্টি রাখতে। সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসব আমরা যেন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পালন করতে পারি, সেজন্য ময়মনসিংহ বিভাগের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ময়ময়মনসিংহ বিভাগের পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা বলেন, কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ ও সরকারের নির্দেশানুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে সার্বজনীন শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসব পালন করবেন। এবছর ময়মনসিংহ বিভাগে (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা) ১হাজার ৫৮৩টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় অতিরিক্ত ডিআিইজি ড.আক্কাছ উদ্দিন ভুঁইয়া, ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার মোহাঃ আহামার উজ্জামান, শেরপুর পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীম, নেত্রকোনা পুলিশ সুপার আকব আলী মুন্সি, রেঞ্জ অফিসের পুলিশ সুপার সৈয়দ হারুন অর রশিদ, জামালপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার প্রমুখসহ চার জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ময়মনসিংহের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সনাতন নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা শুরুর করার আগে রেঞ্জ ডিআইজি ব্যারিষ্টার হারুন আর রশিদ ধর্ষণ, ইভটিজিং ও অন্যান্য নারী নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনাসহ যে কোন প্রয়োজনে ২৪ ঘন্টা পুলিশের সহযোগিতা পাওয়ার লক্ষ্যে ৯৯৯ এ কল করার জন্য প্রচারণা ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য বেলুন উড়িয়ে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ৯৯৯ এর সেবার কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। এই পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি মানুষ ৯৯৯ এ কল করে সেবা গ্রহণ করেছেন। এসময় ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি, চার জেলার পুলিশ সুপারগণ ও পুলিশ অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।

