একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ ময়মনসিংহ কেওয়াটখালী শশ্মান সংলগ্ন সার্বজনীন মহামায়া ভূমিহীন কালীমাতা মন্দির ভংচুর ও প্রতিবাদকারীদের উপর হামলার ঘটনায় গতকাল ২ মার্চ শনিবার ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এড. তপন দে, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও মহানগর হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক-সুমন ভৌমিক, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট, সারদা অঞ্জলী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দুলাল ঘোষ আনুমানিক দুপুর ১২ টায় মহামায়া কালীমাতা মন্দির পরিদর্শন করেন। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা মন্দিরে নগ্ন হামলার ঘটনা কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহমুদুল ইসলাম পিপিএমকে অবহিত করলে তিনি স্বশরিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সঙ্গে ছিলেন ইন্সপেক্টর মুশফিকুর রহমান। পরিদর্শন করে মর্মাহত হন। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ^াস দেন। উল্লেখ্য গত ২১ ফেব্রুয়ারী রাত আনুমানিক ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা পল্লীতে আব্দুল হেকিম, সাইফুল, সোহাগ এর নেতৃত্বে মন্দিরের গেইটের তালা ভেঙ্গে স্বরস্বতী মূর্তি ভাংচুর এবং ক্যাশবাক্স ভেঙ্গে নগদ অর্থ, থালা-বাসন সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। এসময় প্রতিবাদ করায় ভূমিহীন পরিবারের রিনার ৭ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে সালামকে মারধোর করে। এসময় প্রতিবাদে এগিয়ে আসা আবাসনের ঝুমা, আঁখি, কবিতাকে মারধোর করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাটি পত্রিকায় ফলাও করে ময়মনসিংহের দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিন, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ, দৈনিক জাহান ও অনলাইলে মন্দির ভাঙ্গার শিরোনাম আসলে সমালোচনার ঝড় উঠে। ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সহ-সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সহ নেতৃবৃন্দরা এর তীব্র নিন্দা জানান। বিষয়টি আমলে নিয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল ইসলাম পিপিএম তাৎক্ষনিক কোতোয়ালী থানা থেকে সার্বজনীন মহামায়া কালীমাতা মন্দির পরিদর্শন করেন। এই সময় ১নং ফাড়ির পুলিশ ইন্সপেক্টর মো: চান মিয়া ও তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মন্দিরে অবস্থান নেন। মহামায়া আবাসন পল্লীর সভাপতি বাদল সরকার ও সাধারণ সম্পাদক অমল দত্ত ও মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দৈনিক দেশকাল পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি অজয় সরকার মন্দিরের ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেয়ার দাবী জানান।
কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নিরাপত্তার দাবীর প্রেক্ষিতে বলেন, আপনারা দয়া করে মন্দিরে পূজা অর্চনা আরম্ভ করুন। আপনাদের সমস্যা হলে আমাকে ফোন করবেন। আমি আপনাদের নিরাপত্তা দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। এই কথা বলার সাথে সাথে মন্দিরের নেতৃবৃন্দরা পূজা করার নির্দেশ দেন। এর পরই কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ফোর্স নিয়ে বিদায় নিলে এ সময় আবাসনের দুস্কৃতিকারীরা সংখ্যালঘু পরিবারদের আবারও হুমকি দেয়। এই সময় ১নং ফাড়ির পুলিশ ইন্সপেক্টর মো: চান মিয়া বিষয়টি দেখবেন বলে ভূমিহীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ১নং ফাড়িতে আসার জন্য আবেদন জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরের সংবাদ জানা যায়নি।
ময়মনসিংহে মন্দিরে ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ ও কোতোয়ালী ওসি’র পরিদর্শন
Date:

