নিজাম মল্লিক নিজু (উপদেষ্টা সম্পাদক)- ফুটপাত থেকে অবশেষে দিন আনে দিন খায় শ্রমজীবিদের উচ্ছেদ করা হলো। কিছু টাকা জমিয়ে এই শ্রমজীবিরা ফুটপাতের ধারে কাছে শীতের কাপড়, মানিব্যাগ, গেঞ্জী, ছোট বাচ্চাদের কাপড়, খেলনা, বড়দের শার্ট-প্যান্ট ইত্যাদি হরেক রকম জিনিসপত্র স্বল্পদামেই বিক্রয় করতো। ক্রেতারাও অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এগুলো কিনতো। আনন্দও পেতো।
আসলে মেলার আয়োজন কিংবা মেলার দিনকাল প্রায় ফুরিয়ে যেতে বসেছে। এখন মেলা চলে গেছে হাইফাই ড্রইং রুমের অভ্যন্তরে। সেখানে ফুল ভলিউমে চিৎকারসম দোপাট্টা গানের সাথে মেলার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় এক শ্রেণীর সোসাইটি।
ময়মনসিংহের ট্রাফিক ল্যান্ড পেড়িয়েই চোখে পড়তো যেদিকে চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। দেখে ভালোই লাগতো। মেলার মতো মানুষের হাকডাক। স্বল্প আয়ের ক্রেতাদের কেনাকাটা। ভালোই লাগতো ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনাপাড় থেকে স্টেশন রোড সেখান থেকে দূর্গাবাড়ি রোড। জমজমাট আয়োজন। জমজমাট দর্শনার্থীদের আনাগোনা। দুই হাত মেলে ধরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জামা-কাপড় দেখা। অতঃপর দরদাম সাব্যস্ত করে মহাখুশীতে ঈদ আনন্দে বাড়ী ফেরা। কাদের রোষানলে পড়ে ফুটপাতের এই মেলাসম হাটটি বন্ধ করে দেয়া হলো আমি সে কথায় যাবো না। যাবার ইচ্ছাও নেই। পাঠক হয়তো ভাবতে পারেন, আমি ফুটপাতের এই অতিশয় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বানিজ্যের সাফাই গাইছি অথবা ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে কথা বলছি। ভেবে থাকলে ভাবুন, ভাবতে থাকুন। কারণ, আমি তো শুনেছি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যারা দিনে-রাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রোদ্রতাপ সহ্য করে, বৃষ্টিতে ভিজে শুধুমাত্র তাদের শিশুপুত্র-শিশুকণ্যাদের খাদ্য যোগানের জন্য অবিশ্রান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
এখন তারা কী করবেন? চুরিবিদ্যা গ্রহণ করবেন? আমাদের হাঁটাচলা-চলাফেরায় অসুবিধা হয় সেই জন্যেই আমরা ফুটপাত উঠিয়ে দিলাম। এই বীরত্ব আমরা কাদেরকে দেখালাম?
যদি হাটাচলা-চলাফেরায় আমাদের অসুবিধা হয় তাহলে প্রিয় পাঠক নগরীর বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করার সময় প্রবল ঝাকুনির পর ঝাকুনিতে আপনার হৃদপিন্ডে ধকল শুরু হয়ে যাবে। হয়ে যাবে উপক্রম আত্মারাম খাঁচা ছাড়া।
আমরা বারবার বলে আসছি, ফুটপাতের ভ্রাম্যমান খেটে খাওয়া ব্যবসায়ীদের একটা পূনর্বাসন না করে তাদের তাড়িয়ে দেয়া কিংবা ব্যবসা করতে না দেয়া সঠিক কাজ হবে না। অন্ততঃ একবার চিন্তা করতে হবে, এই একেকজন ব্যবসায়ীর সাথে জড়িয়ে আছে একেকটি পরিবার। তাহলে বলাটা কী ভুল হবে, আমরা একজন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করিনি। করেছি একেকটি পরিবারকে।
হবুচন্দ্র গবুচন্দ্রের মতো অর্বাচীন সিদ্ধান্ত নিলেই কী সমস্যা বিদায় হবে? সমস্যার অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো চিন্তা করলেতো বিষয়টা রবী ঠাকুরের জুতা আবিস্কার কবিতার মতো হয়ে যায়।
পূর্বের কথায় আসি–
এরূপ মরার উপর খাড়ার ঘায়ের কথা চিন্তা না করে যারা এই চিন্তাটা নিলেন যেটা ডিলিট করে বরং এই চিন্তাটা করুন যেখানে ফুটপাত ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসাটা করে তাদের বৌ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে অন্ততঃ পান্তা-আহারটা করতে পারে। অন্যথায় তাদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থাটা করে দিন।
ফুটপাত ব্যবসায়ীদের ক্ষুদ্রস্বার্থের জন্য আমরা না হয় বৃহৎ স্বার্থটাই ত্যাগ করলাম। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মেলাসম ব্যবসায়ী মেলাটা জমুক না।

