সুমন ভৌমিকঃ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষতার কারনেই হউক কিংবা জমি উদ্ধারের মানুষিকতায় হউক ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের (মসিক) আকুয়া মৌজায় সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের প্রয়াত ছেলে ডা. মুশফিকুর রহমান শুভ’র নামে গড়ে তোলা বালিকা বিদ্যালয় গুড়িয়ে দিয়ে জমি দখলে নিয়েছে। প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মসিকের বিপুল পরিমান ভূমি বেদখলে থাকলেও তা উদ্ধারে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছেন মসিক!
সূত্র জানায়, শহরের চুনপট্রী এলাকায় মসিকের বিপুল পরিমান ভূমি বেদখলে রয়েছে। উদ্ধারের কোন খবর নেই। রাজনৈতিক ভাবে ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ। দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা বিদ্যালয় গুড়িয়ে দেয়া রাজনীতির বিরোধের বহ্নিপ্রকাশ মাত্র। নেতা-কর্মীরা জানান, মসিক ইচ্ছা করলেই উক্ত জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে লীজ দিতে পারতো। আশপাশের জমি অন্যান্যদের লীজ দিয়েছেন বলে অনেকে জানিয়েছেন। এদিকে লীজ না দিয়ে বালিকা বিদ্যালয়টি গুড়িয়ে দেয়ায় সুশীল সমাজে মসিক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিম্ন আয়ের ২৬০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। এদের শিক্ষা কার্যক্রম এখন চরম অনিশ্চয়তার পথে।
১০ নভেম্বর মঙ্গলবার শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সন্মেলন করে সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান উক্ত বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন রমজান। তিনি জানান, শিক্ষা নগরী ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আকুয়ায় অবস্থিত নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডাঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষক অভিভাবক এবং এলাকাবাসী আজকে আপনাদের সম্মুখে হাজির হয়েছি। ডঃ মুশফিকুর রহমান শুভ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকা আকুয়া বাইপাস সংলগ্ন একটি জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার পূর্বে উক্ত জায়গাটি নোংরা ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। আমরা জায়গাটির মাটি ভরাট করে পরিবেশ দূষণমুক্ত করে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি গড়ে তুলি। আমাদের ময়মনসিংহের গর্ব আকুয়ার কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আওয়মী লীগের বটবৃক্ষ আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের মরহুম সন্তান ডঃ মুশফিকুর রহমান শুভ’র নামে নামকরণ করি বিদ্যালয়টির। এ বিদ্যালয়ে ২৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত অবস্থায় আছে। যখন দেখতে পারলাম, বিদ্যালয়ের আশপাশে তৎকালীন পৌরসভা তাদের নিজস্ব জায়গা বলে দাবি করছেন। সেই দাবীর সঙ্গে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে একমত না হলেও আপাতত জায়গাটি তৎকালীন পৌরসভার বলে মনে করছি। তখনি আমরা পৌর কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করি। যখন পৌর কর্তৃপক্ষ আলোচনার কথা অস্বীকার করে ভেঙ্গে ফেলার হুমকি প্রদান করলে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করি। সম্প্রতি মামলাটি খরিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন আদালতের অর্ডার ব্যতীত বিনা নোটিশে বিদ্যালয়টি ভেঙ্গে ফেলে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এতে করে ২৬০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন বিপন্ন হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। এতে করে নারী শিক্ষার তথা সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবমাননা করা হয়েছে।
অত্র বিদ্যালয়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং প্রায় ৮০% শিক্ষার্থীই বিনামূল্যে পড়াশোনা করে। আমরা যারা শিক্ষক কর্মচারী আছি নামেমাত্র সম্মানির মাধ্যমে সামাজিক ও সমাজ সেবার উদ্দেশ্যে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের উদ্দেশ্য সুমহৎ, আমরা চেয়েছি এ অঞ্চলের নারীরা শিক্ষায় এগিয়ে যাক। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নারী শিক্ষারপ্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নারী শিক্ষায় ভারতকেও অতিক্রম করে একটি জায়গায় অবস্থান করছে।
তাই ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র মহোদয়ের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ থাকবে, বিদ্যালয়টি স্থাপনের জন্য আপনি যোগ্য নগর পিতা হিসাবে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত রক্ষার্থে এবং নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের নামে জায়গাটি লীজ কিংবা ভাড়া মূল্যে আমাদের ব্যবস্থা করে দিবেন। আমাদের সু-মহৎ উদ্দেশ্যে আপনিও শরীক থাকবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

