সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলামের নির্দেশে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে নগরের বিভিন্ন হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রম করার সময় গ্রেফতার ৩১ এবং পর্নোগ্রাফি মামলার আসামী গ্রেফতার।
পৃথক দুটি অভিযান বিষয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ১৭ মিনিটে অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে একজন অজ্ঞাতনামা লোক বাদীর মেয়ের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে বাদীর মেয়েকে বলে যে, তোমার আপত্তীকর অশ্লীল ভিডিও আমার মোবাইল ফোনে আছে, তুমি যদি আমার সাথে গোপনে দেখা না করো তাহলে তোমার গোপন আপত্তীকর ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে ভাইরাল করে দিবো।
পরবর্তীতে বাদীর মেয়ে তার কথামতে রাজি না হলে পূণরায় ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একই মোবাইল নম্বর থেকে বাদীর মেয়ের উক্ত মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে কু-প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু বাদীর মেয়ে তার কথামতো রাজি না হয়ে বাদীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বাদীকে জানায়।
পরবর্তীতে বাদী ও তাহার মেয়ে উক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ডিবি পুলিশকে অবগত করে। বাদী ও বাদীর মেয়েসহ ডিবি পুলিশকে অবহিত করিলে ডিবির ওসি সহিদুল ইসলামের নির্দেশে ২৬ সেপ্টেম্বর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এসআই মোঃ আশরাফুল আলম সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স কোতোয়ালী মডেল থানাধীন তাজমোহল মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে অনুমানিক বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে পর্নোগ্রাফি মামলার আসামীকে গ্রেফতার করে। ডিবি পুলিশ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে তার নিজস্ব মোবাইল ফোন VIVO-Y03, যার মোবাইল নম্বর উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনে বিভিন্ন এ্যাপস/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর ভিতরে সংরক্ষিত বাদীর মেয়ে সানজানা এর ২টি অশ্লীল আপত্তীকর ভিডিও পাওয়া যায়।
অপরদিকে, নগরীর বিভিন্ন হোটেলে অসামাজিক কার্যক্রম খুব বেড়ে যাওয়ায় ডিবির ওসি সহিদুল ইসলামের নির্দেশে ২৭ সেপ্টেম্বর এসআই রুপন কুমার সরকার সংগীয় অফিসার ফোর্স বিভিন্ন হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে।
এসময় নগরীর আমির হোটেল, খান হোটেল, আশা হোটেল, খাজা হোটেল, হাফেজিয়া হোটেল, রূপমহল, শরীফ ও মর্ডান হোটেল এর বিভিন্ন কক্ষ থেকে গনউপদ্রব সৃষ্টি ও অসামাজিক কার্যক্রম করার সময় সর্বমোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবির ওসি সহিদুল ইসলাম জানায়, ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন রিসোর্ট যেমন সিলভার ক্যাসেল, চরপাড়া ও বাইপাস এলাকায় বিভিন্ন হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ চলিতেছে এই বেপারে হোটেল মালিকদের আরো সজাগ দৃষ্টি কামনা করেছেন। পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপকালে রিসোর্ট ও হোটেলে বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করার কারনে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ওসি আরো জানান, রিসোর্ট ও হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা সজাগ দৃষ্টি রেখেছে। এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত না থাকিলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি নগরীর বিভিন্ন সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্শন করে বলেন, সকলেই যেন বিভিন্ন হোটেলের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখেন।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

