সুমন ভৌমিকঃ আম্বিকাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন চর শ্রীকলদি সাহেবীয়া দাখিল মাদ্রাসার মাঠে ২৪ নভেম্বর (বুধবার) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৪ নং পরানগঞ্জ ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ইউনুস আলী মাস্টার এর নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী মাস্টার এর নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সাহেবীয়া দাখিল মাদ্রাসার জমিদাতা সাহেব আলী মন্ডল এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত।
উক্ত মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আশরাফ হোসাইন, ভাইস চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান শাহীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার কলি, সিরতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ, ভাবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার সোহেল, ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাসেল পাঠান সহ প্রমুখ। এসময় জনপ্রতিনিধিরা ও নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী মাস্টার এর নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, আগামী ২৮ তারিখ পরানগঞ্জ ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা জাতির জনক শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণকারী, আমাদের সকলের আস্থা-ভালোবাসা ও আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা জননেত্রী শেখ হাসিনার নিবেদিত মানুষ ইউনুুস আলী মাস্টারের পক্ষে আজকের এই নির্বাচনী জনসভা। ২৮ তারিখ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ছোট করে বা হীন করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে সকল কিছুর উৎস হচ্ছে শেকড়। শেকড় গাড়া থাকে মাটির নীচে, সেই শেকড়ের উপর ভর করেই একটি গাছের জন্ম হয়, একটি গাছের বৃদ্ধি হয়, সেই গাছ থেকে ফল হয়। সেই ফল খেয়ে আমরা জীবন ধারণ করি। তাই যে কোন পর্যায়ের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে ইউনিয়ন হচ্ছে শেকড়, গ্রামবাংলা হচ্ছে শেকড়। সেই শেকড়ের উপর ভর করেই রাষ্ট্রের অবকাঠামো দাঁড় হয়, সেই অবকাঠামোতে দেশের উন্নতি হয়। তাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের প্রতিনিধি যদি না থাকে তাহলে সেখানে উন্নয়নের সুযোগ কম হয়। কারণ রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তাদের কাছে কোন বার্তা পৌছে দেয়ার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে তাদের কোন অনুসারী কিংবা তাদের আদর্শের কোন লোক জনপ্রতিনিধি। সেই হিসাবে পরানগঞ্জে আগামী ৫ বছরের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের কান্ডারী হবে যিনি নৌকা মার্কার প্রার্থী, যিনি শেখ হাসিনার প্রার্থী, যিনি বঙ্গবন্ধুর প্রার্থী। আপনারা পরানগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হিসেবে পেয়েছেন ইউনুস আলী মাস্টারকে। যদি আপনি সম্পদে তাকে মূল্যায়ন করেন, সেই জায়গায় তার অবস্থান নীচে। কিন্তু একজন মানুষ হিসাবে তার মূল্যায়ন করলে আমাদের চেয়ে তার বৃদ্ধি অনেক বেশি। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে থেকে বাংলায় কথা বলছি, এর জন্য যারা সুযোগ করে দিয়েছেন-তাদের একজন হলো এই মহান মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী মাস্টার। নাহলে হয়তো আমাকে কথা বলতে হতো উর্দুতে। শেখ হাসিনা এমন একজন মানুষকে নৌকা প্রদান করেছেন যিনি মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন আমার পিতা তাদের একজন। আমার পিতার নেতৃত্বে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। আমার পিতার মুখে শুনেছি যুদ্ধে উনারা মারাও যেতে পারতেন। তারা সম্পদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেননি, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীন দেশ উপহার দিতে। তেমন একজন মানুষকে জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়ে পাঠিয়েছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আলী মাস্টার একজন শিক্ষক। এলাকার অনেককেই উনি শিক্ষা দান করেছেন। এজন্য উনি আমাদের অনেকের চেয়েও দামি। এই এলাকার মানুষ হিসেবে ইউনুস আলী মাস্টারকে আপনারা আমার চেয়ে বেশি ভালো চিনেন। আমার পিতা ধর্মমন্ত্রী থাকাকালীন ইউনুস আলী মাস্টার মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্তানের জন্য সকল সুবিধা এনে দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, বিগত ১২ বছর শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। তিনি এই ১২ বছরে দেশকে আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তিনি এই চরাঞ্চলে কৃষকের সারের ব্যবস্থা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, শিক্ষার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তিনি বৃদ্ধ, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার সরকার এই চরাঞ্চলকে সুজলা-সুফলা করে দিয়েছে। বিগত জামাত-বিএনপি আমলে চরাঞ্চলের প্রত্যেকটি মানুষকে সারের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। ডিজেলের জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। এই আন্দোলন সারা দেশে হয়েছে এবং আন্দোলন করতে গিয়ে কৃষক ভাইয়েরা বিভিন্ন জায়গায় শহীদ হয়েছে। কিন্তু আজকে ঘরের দুয়ারে আপনারা সার পান, আপনারা ডিজেল পান, আপনি আপনার ক্ষেত চাষ করতে পারেন।
এসময় তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্য আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি, একজন মাস্টারের জন্য আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। উনি যদি নির্বাচিত হন তাহলে আপাদের চাল উনি চুরি করবেন না। একজন শিক্ষক মানুষ কখনও চোর হয়না, একজন শিক্ষক মানুষ কখনও লুটেরা হয়না। এজন্যই আপনারা উনাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিবেন। কারণ অনেকের সন্তানকে উনি শিক্ষিত করেছেন। ইউনুস আলী মাস্টার একজন মুক্তিযোদ্ধা, ইউনুস আলী মাস্টার একজন শিক্ষক, ইউনুস আলী মাস্টার একজন শেখ হাসিনার প্রতিনিধি। যে শেখ হাসিনা আজকে আমার আপনার ভাগ্যকে বদলে দিয়েছেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছেন, তার প্রতিনিধি হিসেবে আগামী ২৮ তারিখ বঙ্গবন্ধুর মার্কা, মুক্তিযুদ্ধের মার্কা, শেখ হাসিনার মার্কা-নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা তাকে জয়যুক্ত করবেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণকর্মী হিসেবে উনি আপনাদের সকল প্রকার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা এনে দিতে পারবেন। ইউনুস আলী মাস্টারকে আপনারা নির্বাচিত করলে, তিনি যেকোন জায়গায় অধিকার খাটিয়ে আপনাদের দাবি আদায় করতে পারবেন।
জননেতা মোহিত উর রহমান শান্ত নির্বাচনী জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আপনারা উনাকে নির্বাচিত করেন-তবে কুড়ের চরের ব্রীজ করে দিব ইনশাআল্লাহ, এছাড়াও আলিম মাদ্রাসা করে দিব এবং অম্বিকাগঞ্জ কলেজকে এমপিও ভুক্ত করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ এবং মঞ্চে উপস্থিত সকলকে সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। এছাড়া যারা নৌকার সমর্থনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন তাদের সকলকেও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান।

