চীফ রিপোর্টারঃ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে পরাজিত র্প্রাথীরা । সদ্য সমাপ্ত মসিক নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জয়লাভ এর অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রার্থী’রা ফল প্রত্যাখান করা সহ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করে পুনঃনির্বাচন চেয়েছেন।
শুধু দাবী নিয়েই সীমাবদ্ধ নয় তারা । এ নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিবর্গ।
রবিবার (১২ মে) সকাল ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শহরের ৪নং ওয়ার্ডের হাজারো নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ।
এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ইভিএম মেশিনে ভোট কারচুপি করে পছন্দের প্রার্থীদের জয়লাভ করানোর অভিযোগ করে তার প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয় ।
আজ সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের কর্মী সমর্থক’রা মিছিল নিয়ে হাজারো নারীপুরুষের সমন্বয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর সম্মিলিত ভাবে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কান্তি বসাক এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন ।
উক্ত স্মারকলিপিতে সই করেছেন একই এলাকার পরাজিত ৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী। তারা হলেন- রাসেল পাঠান, ওয়াহিদুল হাসান সুজন, মনির উল্লাহ রিপন ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী শাহানা আক্তার। এদের মধ্যে রাসেল পাঠান মহানগর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বাকি সবাই আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিতে সংযুক্ত ।
পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থীগন শতভাগ কারচুপির অভিযোগ এনে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, ‘ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর ৪ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান দুলাল নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন নির্বাচনী এলাকার একটি নির্মানাধীন ভবনে ভোটারদের ধরে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভিতি প্রদর্শন করেন। নির্বাচনের দিন এলাকার অলিতে-গলিতে ভোটারদের শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করা সহ তাকে ভোট না দিলে দেখে নেয়ার হুমকি-ধামকি দিয়েছেন । নির্বাচনের দিন প্রকাশ্য বলে বেড়িয়েছেন এক কোটি টাকা দিয়েছি নির্বাচিত হওয়ার জন্য। তার প্রতিফলন ভোটের ফলাফলে সত্যতা মিলেছে বলে দাবি করা হয়। এর পর স্মারকলিপি নিয়ে যান পাশ্ববর্তী আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তার অফিসে।
এছাড়া তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার , ময়মনসিংহ রেঞ্চ ডিআইজি, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এর আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা (২০১৯) ও ময়মনসিংহ দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

