সুমন ভৌমিক (অনুসন্ধানী রিপোর্ট): মুক্তাগাছা পৌরসভার সামনে ও নতুন বাজার এলাকায় ইজারাদার সরকার জাহাঙ্গীর পৌর টুল নামে স্লীপে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা চাঁদাবাজী করে ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বসেছেন এই ইজারাদার! গত ১০ ফেব্রুয়ারী দৈনিক উর্মিবাংলা প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন নড়ে বসে এবং দ্রুত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। জেলা প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ফলে মুক্তাগাছায় চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রশংসাও কুড়ায় পরিবহন চালকদের কাছে।
কিন্তু গত ৭ই মার্চ থেকে চালকদের কাছে ফের অবৈধ চাঁদাবাজি শুরু করেছেন ইজারাদার। অবৈধ চাঁদাবাজি বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা বলতে গেলে অফিসার ইনচার্জ থানায় ছিলেন না এবং থানার ডিউটি অফিসার জানান, রসুলপুর মটর শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতি ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন ও অফিসার ইনচার্জ রসুলপুর অবস্থান করছেন। মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অবৈধ চাঁদাবাজি বিষয়ে মুক্তাগাছার পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইজারাদার জাহাঙ্গীর এর সাথে বেপরোয়া চাঁদাবাজি নিয়ে তিনি বসবেন। এছাড়াও তিনি বলেন আগামী চৈত্র মাসের শেষদিকে তার মেয়াদ শেষ হবে। গত ১০ই ফেব্রুয়ারী রিপোর্ট এর সময় তিনি বলেছিলেন পৌর টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য ১০ টাকা টোল আদায় করার জন্য সরকার জাহাঙ্গীরকে ইজারাদার দিয়েছিলেন কিন্তু পৌর টোল বাবদ দুইটি স্লীপে ১০০ টাকা ও ২০ টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি হতভম্ব হন এবং ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রতিবেদকে জানিয়েছিলেন।
অবৈধ চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মুক্তাগাছা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হান্নান প্রতিবেদককে জানান, পৌর টুলের নামে পরিবহন চালকদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। কোন কোন পরিবহন থেকে ২/৩ শ টাকাও টুলের নামে আদায় করে থাকেন। তারা কতিথ স্লীপ ব্যবহার করে চাঁদাবাজী করেন। এসকল অভিযোগ পৌর মেয়র বরাবরই বলেন আমি বিষয়টি দেখবো।
এছাড়াও তিনি বলেন ময়মনসিংহ জিলা মটর মালিক সমিতি’র অন্তভুক্ত মুক্তাগাছা উপজেলা মটর মালিক সমিতি প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন বেপরোয়া ভাবে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। প্রমাণ স্বরুপ আমার কাছে স্বাক্ষর ছাড়া ৭০ টাকার স্লীপ আছে এবং এরকম অনেক পাবেন চাঁদাবজির নমুনা। চালকদের অভিযোগ, মেয়র এর মূল তোতা। তার প্রত্যক্ষ প্ররোক্ষ মদদেই পরিবহনে চাদাঁবাজী হয়। চাঁদা না দিলে চালকদের নির্যাতন করা হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের সড়কে চাঁদা নিচ্ছে মুক্তাগাছা পৌরসভার ইজারাদার ও চাঁদা আদায়ে তাদের বিভিন্ন রশিদ ছাঁপানো রয়েছে। ঢালাও ভাবে এগুলোর ব্যবহার করছে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজীতে। এ দিকে মুক্তাগাছা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কার্তিক বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকে জানান, আমি ছুটিতে আছি। বেপরোয়া চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করে দিয়েছি কিন্তু আবারও চলছে আমি অবগত নই এবং অস্বীকারও করেননি। বেআইনী চাঁদা আদায়ের দৌরাত্ম্যে বেড়েই চলেছে। স্থানীয় পুলিশ বরাবরই এড়িয়ে যান। এর আগেও অবৈধ বেপরোয়া চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে কথা হয়েছিল মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পৌর টুল বাবদ ১০ টাকা আদায়ের জায়গায় ১০০ টাকা হারে রশিদ বই ছাপিয়ে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয় মুক্তাগাছার উপর দিয়ে আসা বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মিনি ট্রাক, ম্যাক্সি, পিকআপ, ট্যাক্সি, মাইক্রোবাস, অটো-টেম্পু, অটো-রিকশা, সিএনজি, ট্রলি, লরী, ভটভটি, নছিমন, করিমন সহ সকল যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি থেকে। দৈনিক ১ বার চাঁদা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পৌর টুলের ইজারাদার যেন মাস্তানী কায়দায় চাঁদাবাজী করছে। ইজারাদারের সাথে কোন ভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুক্তাগাছার পৌর মেয়র ও শ্রমিক ইউনিয়নের কেউ তার নম্বর দিতে পারেনি।(চলবে)

