একাত্তর বাংলাঃ পরকীয়া প্রেমে বাধা দেয়ায় এবং টাকা ধার নিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে আমিনুল ইসলাম কালু নামের এক পোশাককর্মীকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে তার স্ত্রী।
সোমবার নারায়ণগঞ্জের পৃথক চারটি আদালতে নিহত কালুর স্ত্রী রিক্তা বেগম (২৫), তার পরকীয়া প্রেমিক রেজাউল করিম পলাশ (৩০) ও তাদের ভাড়া করা দুই খুনী মাসুম হোসেন এবং ইমরান এ হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে হত্যার দায় স্বীকারসহ জবানবন্দি দিয়েছেন।
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবির, ফাহমিদা খাতুন, মাহমুদুল মহসিন ও আফতাবুজ্জামানের আদালতে পৃথকভাবে এ চারজনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুম ও ইমরানকে ভাড়া করা হয়। পহেলা মার্চ সন্ধ্যা ছয়টায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাত সাড়ে আটটায় কালুকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার পর মৃতদেহ ফেলে যায় তারা।
পরের দিন ব্রহ্মপুত্র নদের তীর থেকে গলাকাটা অবস্থায় আমিনুল ইসলাম কালুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত করে কালুর ভাই সামছুল হক বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরই বেরিয়ে আসে হত্যার রহস্য। পরে পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করে।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে চার আসামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জবানবন্দিতে কালুকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তারা। আদালতে তারা হত্যার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছে।

