সুমন ভৌমিকঃ তৃণমূল নেতা কর্মিদের ভোটে মনোনীত আশরাফ হোসেনকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেন। এ খবরে ময়মনসিংহের তৃণমূল আওয়ামী লীগ কর্মীরা উচ্ছসিত হয়। ময়মনসিংহের সর্বত্রই প্রধানমন্ত্রী’র বিচক্ষনতা’কে সাধুবাদ জানায়।

গতকাল ময়মনসিংহের কৃষ্ণচুড়া চত্বরে মহানগর আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলাস্থ সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, জেলা ও মহানগর যুবলীগ, জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগ, জেলা ও মহানগর কৃষকলীগ, জেলা ও মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগ ও জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ সহ সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ নৌকা প্রতীক প্রাপ্তি’তে আশরাফ হোসেনকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
ময়মনসিংহের জনপদে ছিলো হাজারো জনতার বাঁধ ভাঙ্গা উল্লাস। নৌকার ধ্বনিতে মুখরিত ময়মনসিংহ। হাজার হাজার নেতাকর্মির উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সদর উপজেলা জুড়ে জোয়ার উঠেছে নৌকার মাঝি হলো কে ‘আশরাফ ভাই’ ছাড়া আর কে।

নৌকার মাঝি আশরাফ হোসেন বলেন, আপনাদের আন্তরিকতা ও সমর্থন আমার পথচলার প্রেরণা। আপনাদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় আমি যেমনি দলীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে মূল্যায়িত হয়েছি তেমনি আপনাদের আন্তরিকতায় বিজয় এনে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চাই।
আশরাফ হোসেন বলেন, নেত্রী যাকে আওয়ামী লীগে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন আপনারা তাকে নিয়েই কাজ করবেন। নৌকার বিজয় মানে শেখ হাসিনার বিজয়। আরো অনেকে হয়তো নির্বাচন করবে। সে আওয়ামী লীগের হতে পারে? আমরা নেত্রীর সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করবো। তাদের সাথে খারাপ আচারন করা যাবেনা। তারাও আমাদের ভাই। বিরোধ নয়, চাই মূল ধারার রাজনীতি। ইতিমধ্যে আমাকে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

এসময় আশরাফ হোসাইন বলেন, আমি মনে করি চেয়ারম্যান পদে আমার সাথে অন্য যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারা আমার চাইতে অনেক ক্ষেত্রেই যোগ্যতা সম্পন্ন। তৃণমূল আমাকে একটু বেশি পছন্দ করে, তাই নেত্রী আমাকে নৌকা’র মাঝি বানিয়ে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন। এ নৌকা আমার নয়, এ নৌকা তৃণমূলের, তৃণমূলের আকাংঙ্খকে বাস্তবায়ন করতে নেত্রী আমাকে নৌকা দিয়েছেন।
তিনি আরো বললেন, আমি সমাবেশ শেষে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতৃববৃন্দর কাছে গিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে কমিটি গঠন করার আহবান জানাবো, যেনো নির্বাচনী প্রচারনায় সকলে সমানভাবে অংশগ্রহন করতে পারে।
এসময় আশরাফ হোসাইন বলেন, আগামী ৩১ তারিখ আপনারা নৌকা প্রতীকে ভোটারদের কাছে ভোট চাইবেন। আমি দৃঢভাবে বিশ্বাস করি, বিগত দিনে ময়মনসিংহের তৃণমূল কর্মীরা নৌকাকে বিজয়ী করতে যতটা পরিশ্রম করেছেন ঠিক সেভাবে সদর উপজেলা নির্বাচনে কাজ করলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবেনা।
সংবর্ধনা মঞ্চে মাইক হাতে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতাশামূল আলম বলেন, আপনাদের সমর্থন আন্তরিকায় নিশ্চই জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হবে। তিনি সকলকে হাত উচিয়ে সমর্থন চাইলে, উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান। পরে নেতাকর্মিরা প্রার্থী আশরাফ হোসেনকে ফুলের মালাদিয়ে শুভেচ্ছা জানান ।

উক্ত গনসংবর্ধনার মঞ্চে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ এহতেশামুল আলম, মহানগর আওয়ামী লীগ সহ সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, মীর শহিদুল্লাহ, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. তাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগ আহবায়ক এড. আজহারুল ইসলাম, শহর ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুর রাজ্জাক উষান। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন, পরাণগঞ্জ, বোররচর, সিরতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
এর আগে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত হাজার হাজার মটর সাইকেল শোভাযাত্রার শোডাউন নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনীত প্রার্থী আশরাফ হোসাইনকে স্বাগত জানানো হয়।
এসময় চুরখাই থেকে বিশাল মটর শোভাযাত্রা আসে। মটর শোভাযাত্রাটি মাসকান্দা, চরপাড়া,ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ড হয়ে নতুন বাজার ঘুড়ে গাঙ্গিনারপাড় হয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে সমাবেশ স্থলে গিয়ে শেষ হয়।

