একাত্তর বাংলাঃ মাসে বারো লক্ষ টাকা রোজগার এনার৷ এবার প্রশ্ন? ইনি কি করেন? জবাব শুনলে চমকে যাবেন৷ ইনি পেশায় একজন চা বিক্রেতা৷ চা বিক্রি করেই লাখপতি হওয়া যায়। এমনই এক চা বিক্রেতার খোঁজ পাওয়া গেল মহারাষ্ট্রের পুণেতে। পুণের ব্যবসায়ী নভনথ ইয়েলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করেছেন ‘ইয়েলে টি হাউস’।
তবে নভনথকে এখন নিছক ‘চা বিক্রেতা’ বললে ভুল হবে। বলা ভাল, নিজেদের দোকানের নামকেই তাঁরা একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করে ফেলেছেন। অদূর ভবিষ্যতে এই নামকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা করছেন তাঁরা।
শুধু নিজের উপার্জনের কথা ভেবেই ক্ষান্ত হননি তিনি, পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগও করে দিয়েছেন। আপাতত পুণেতেই তিনটি সেন্টার আছে তার। একনামে সকলেই চেনেন তাঁর সংস্থাকে।
দোকানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নভনাথ ইয়েলের দাবি, পুণে শহরে ভাল চায়ের দোকানের অভাব ছিল। পকোড়া বা ভাজা জিনিসের বিপণন হলেও পুণে শহরে তৈরি চায়ের সেভাবে ব্র্যান্ডিং কখনও হয়নি। শহরে অনেক চায়ের দোকান থাকলেও মানুষ যে স্বাদের চা পান করতে চাইতেন, তাতেও খামতি ছিল। আর এই জায়গাতেই বাজিমাত করেছেন তাঁরা।
নভনথ জানতেন, কাজ যেমনই হোক না কেন, যদি তা সঠিকভাবে করা যায়, তবে ফল মিলবেই৷ এখন শুধু চা বিক্রি করেই তার উপার্জন মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকা।
সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নভনথ জানিয়েছেন, চার বছর ধরে তাঁরা ভাল করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই চায়ের একটি নির্দিষ্ট স্বাদ ঠিক করেছেন। স্বাদ, পরিচ্ছন্নতা এবং পেশাদারিত্বের মেলবন্ধনে ‘ইয়েওলে অমৃততুল্য’ চা এখন পুণে শহরে দারুণ জনপ্রিয়।
নভনথ জানিয়েছেন, প্রতি মাসে তাঁরা ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার চা বিক্রি করেন। প্রতিটি দোকানে রোজ তিন থেকে চার হাজার কাপ চা বিক্রি হয়। এভাবেই চা বিক্রি করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান করা সম্ভব বলেই মনে করছেন চায়ের দোকানের কর্ণধাররা।

