একাত্তর বাংলাঃ সারা দেশের ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘মুক্তির উৎসব’।
শুক্রবার (০১ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, অগ্নিঝরা মার্চের অদম্য সাহস আর প্রত্যয়ী যোদ্ধাদের মুখ থেকে বীরত্বগাঁথা-দুর্ধর্ষ যুদ্ধের গল্প শুনে তারা নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়েছে।
নাচ, গান আর কবিতা। সবকিছুতেই যেন দ্রোহের সুর আর পূর্ব প্রজন্মের দৃঢ়তা। ছিলো প্রতিজ্ঞা আর প্রত্যয়ের জয়গানও।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত অষ্টাদশ মুক্তির উৎসবে নেচে গেয়ে অদম্য সাহস আর প্রত্যয়ের অগ্নিঝরা মার্চের সুচনা করলো নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। যেখানে অংশ নেয় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ১৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। এসময় আগত শিক্ষার্থীদের নতুন করে দেশ গড়ার শপথ দেন মুক্তিযোদ্ধারা।
মুক্তিযোদ্ধা ডা. সারোয়ার আলী বলেন, আমরা কোনো নারী ধর্ষণ দেখতে চাই না, শিশু ধর্ষণ দেখতে চাই না। শিশু হত্যা দেখতে চাই না। এই সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে হবে।
পরবর্তী প্রজন্মও সেই শপথে বলিয়ান হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের স্বাধীনতা কিভাবে অর্জন হয়েছে, কিভাবে সোনার বাংলাদেশ হলো তা জানার জন্য আমরা এখানে এসেছি।
মুক্তির উৎসবে গুণীজনরা অংশ নিয়ে সবাইকে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার আহবান জানান।
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, প্লেটো জিজ্ঞেস করেছিলেন সবচাইতে বড় দেশ প্রেম কি? সক্রেটিস বলেছিলেন সবচেয়ে সুন্দরভাবে নিজের কাজ করা। আমাদের মাশরাফি বিন মর্তুজাও একই কথা বলেছেন, সবাই কেনো ক্রিকেটে দেশপ্রেম খুঁজে? সবাই নিজের কাজ সুন্দরভাবে করলে সেটাই হবে দেশপ্রেম।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের শিক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতি বছরের পহেলা মার্চ মুক্তির উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

