একাত্তর বাংলাঃ আগামী ২ মার্চ পর্দা উঠছে আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ-২০১৯ এর। এক যুগ বয়সী ‘চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে এই আয়োজন চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত ।
এবার ৫টি ভেন্যুতে প্রদর্শনী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন’ এই শ্লোগান নিয়ে শুরু হচ্ছে শিশু নির্মাতাদের ১২তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উৎসব । শিশুদের চোখে উঠে আসা সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এবার শিশুদের নির্মিত ৬৮টি চলচ্চিত্রের মধ্যে প্রদর্শন করা হবে ২৫টি চলচ্চিত্র। সবাইকে এ আয়োজনে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে শিশুরা।
শিশুরা বলে, আমরা ফিল্মের মাধ্যমে চেষ্টা করি শিশুদের সমস্যাগুলো সামনে আনার, প্রশাসন নিজেরা সচেতন হয়ে যেন এই সমস্যা দূর হয়।
এবার আয়োজনে ‘ইয়াং বাংলাদেশ ট্যালেন্ট’ বিভাগে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে স্থান পাবে, ‘তারুণ্যের জয়গান’।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ১’শ থেকে দেড়শো শিশু ভলান্টিয়ার কাজ করছে, একদম ছোট থেকে স্কুল কলেজ পড়ুয়া তারা। এই শিশুরাই সবকিছু করছে, পুরো অনুষ্ঠানটাই তারা পরিচালনা করছে।
শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, পৃথিবীতে উদাহরণও আছে একটা জাতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে একটি চলচ্চিত্র। আমরা ছোট থেকেই যদি এই মাধ্যমটা তৈরি করি তারা শুধু দেখবে তা না তারা নিজেরাই চলচ্চিত্র তৈরি করবে।
অন্যদিকে শিশুদের চলচ্চিত্র নির্মাণ শুধু দেশে চলচ্চিত্র নির্মাতা তৈরির উদ্দেশ্যেই নয়, বরং শিশুদের মধ্যে নেতৃত্ব গুণ তৈরি,আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মনোভাব, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরিরও উপকরণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। চিলড্রেন’স সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী বলেন, আমরা বড়দের বদলাতে পারবো না, তাই আমরা ছোটদের নিয়ে কাজ করছি। ছোটদের মাধ্যমে পরিবর্তন হবে।
আগামী ২ মার্চ উদ্বোধনের দিন ছাড়াও শওকত ওসমান মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, আলিয়াঁস ফ্রঁসেজ, ঢাকা ও ব্রিটিশ কাউন্সিলে সকালে ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্য।

