একাত্তর বাংলাঃ ১৯৫২ সালে বাঙালি রক্ত দিয়েছে তবুও ভাষার দাবি ছাড়েনি। রক্তাক্ত সেই ইতিহাস পেরিয়ে নতুন করে আত্মজাগরণ ঘটে বাঙালির। স্বদেশ ও স্বশাসনের অধিকার আদায়ের শপথ তো একুশের কাছেই পাওয়া।
ভাষা সৈনিকরা বলছেন, যে অনির্বাণ চেতনা জ্বেলেছে একুশ তা এখনো হতে পারে সকল শুভ প্রত্যয়ের অঙ্গীকার।
সময়টা ১৯৪৭।
দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের উদ্ভব। তবে পাকিস্তানের দুই অংশ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে মৌলিকভাবেই বেশ কিছু ভিন্নতা ছিল। বহু জাতি নিয়ে গড়া পাকিস্তানের ৫৪ শতাংশ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। তা স্বত্বেও ৬ শতাংশের উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পায়তারা করেছিল শাসকবর্গ। তবে তা মেনে না নিয়ে, রাজপথ কম্পিত করে শ্লোগান তোলে বাঙালি। ঘাতকের বুলেট গর্জে উঠল। রক্ত ঝরলো।
ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত হল|। সেদিন থেকে, বাঙালি আর পেছনে তাকায়নি। এগিয়ে গেছে, অসংখ্য প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের বজ্র ঘোষণা উচ্চকিত করে লক্ষ প্রাণের আত্মাহুতির অনলশিখা প্রজ্বলিত রেখে।
একুশ অবিনাশী সূত্রে গেঁথেছে বাঙালিকে। পরিবর্তন ও রূপান্তরের ধারাকে করেছে বেগবান। বাহান্ন উত্তরকালে রাজনৈতিক জাগরণ শুধু নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জাগরণও ছিল অসামান্য।
ঢাবির অধ্যাপক সৌরভ সিকদার বলেন, ‘সংস্কৃতি ব্যাপারটা হচ্ছে এরকম, যখন কোন রাজনৈতিক ঘটনা ঘটে, উত্থান-পতন হয় কোন জাতির তখন সেটা প্রভাবিত করে ঠিক সেই একইভাবে আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের সংস্কৃতি চর্চাকে প্রভাবিত করে। আর তার ফল আমরা আজকেও পাচ্ছি।’
বাহান্নর পরই বাঙালি তার হাজার বছর ধরে তৈরি কৃষ্টি ও ঐতিহ্যর দিকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করেন। এ সময়ের কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যেও আসে ধর্মনিরেপেক্ষতার বোধ।
ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক বলেন, ‘সাহিত্য সংস্কৃতির দিক থেকে একটি বিকাশ সেটা বাঙ্গালীয়ানার পরিপ্রেক্ষিতে পাশাপাশি যখন রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ভাষা আন্দোলন বিরাট প্রভাব সৃষ্টি করল যে রাজনৈতিক দিক থেকেও পরিবর্তন, গণতান্ত্রিকতা জাতীয়বাদের মূলত সেইসঙ্গে প্রগতিবাদী চেতনাতেও।’
সমাজ ও রাষ্ট্রের নির্মাণ কলা যেন একুশের চেতনা ধারণ করেই সৃষ্টি হয়। যে সূত্র বাহান্ন ও একাত্তরকে বেধেছে তা যেন, সুখী-সমৃদ্ধিয় বাংলাদেশকে একই সূত্রে গাঁথতে পারে এমন প্রত্যাশা সকলের

