একাত্তর বাংলাঃ পুরনো কিংবা নতুন, লেখক মাত্রই আন্দোলিত বই প্রকাশে। কিন্তু বইয়ের রয়্যালিটি পাওয়ার ক্ষেত্রে নানান বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করছেন নতুন লেখকরা। এদিকে, বই প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন লেখকদের অপেশাদারিত্বকে দায়ী করে প্রকশকরা বলছেন, লেখক সম্মানী দেয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে তাদের।
বইমেলার পড়ন্ত বিকেল। থরে থরে সাজানো অসংখ্য বইয়ের বিকিকিনি চলছে প্রাঙ্গণজুড়ে। দিন যত যাচ্ছে, প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও বাড়ছে। নতুন বইয়ে পাঠকের হাতের ছোঁয়া অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করে নতুন লেখকদের মাঝে।
লেখকরা বলেন, ‘আমার প্রথম বই দেখে মনে হচ্ছে, আমি আমরা সন্তানকে দেখছি। এতটাই আনন্দিত।’
আনন্দ অপার হলেও বই প্রকাশের ক্ষেত্রে নানা হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। বলছেন, প্রকাশকদের অসহযোগী মনোভাব এবং রয়্যালিটি দেয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
লেখকরা জানান, ‘মেলা আমার কতগুলো বই বিক্রি হচ্ছে, সেই সংখ্যা আমাদের জানতেছিনা। আর বই বিক্রি পর যদি রয়্যালিটি না পাওয়া যায় সেটাও একটি সঙ্কট।’
তবে বই প্রকাশের ক্ষেত্রে নবীন লেখকদের পেশাদারী মনোভাব রাখা উচিত বলে মনে করেন প্রকাশকরা।
কাকলী প্রকাশনীর নাছির আহমেদ সেলিম বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে চার হাজার বই মেলা বের হয়। এই সবগুলোই কি পাঠকের জনপ্রিয়তা পাবে।’
অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্স-এর প্রকাশক সৈয়দ জাকির হুসেইন বলেন, এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পেশাদারিত্ব। প্রকাশক যদি পেশাদার হয়ে থাকে, তাহলে সেই অবশ্যই লেখককে খবরটা দিবেন। আবার অন্যদিকে লেখক যদি পেশাদার হয়ে থাকে তাহলে উনি কেন অর্থ ছাড়া তার পাণ্ডুলিপি প্রকাশককে দিবেন। এমন প্রকাশক বেচে নেয়া উচিত যে প্রকাশকের উপর লেখক আস্থা রাখতে পারবে।’
উৎস পাবলিকেশন্স সেলিম আহমেদ বলেন, ‘মূলত এই সব অভিযোগ তরুণ লেখকরা প্রকাশকদের বিরুদ্ধে করে থাকেন। নিজের অন্তঃসারশূন্যটা দূর করার জন্য।’
তারা বলছেন, শুধু বই প্রকাশের ক্ষেত্রে মনোযোগী না হয়ে লেখার মান বাড়াতে জোর দেয়া উচিৎ নতুন লেখকদের।

