একাত্তর বাংলাঃ ফেনীর সদর হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে যাওয়া শিশুটি বড় হচ্ছে বাবা-মার আদর আর ভাইয়ের স্নেহে। নতুন পরিবার তার নাম দিয়েছে রুহি। অভিভাবকত্ব পেয়ে খুশি বখতেয়ার মুন্নার পরিবারও। সুবিধাবঞ্চিত এ ধরণের শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড।
জন্মের পর হাসপাতালের সিঁড়ির নিচ থেকে পাওয়া নাম পরিচয় বিহীন শিশুটি পেলো অভিভাবক। পরম মমতায় বুকে তুলে নিলো নতুন মা। সন্তান হিসেবে রুহিকে পেয়ে খুশি ফেনীর সাবিনা ইয়াসমিন। আদরের ছোট বোনকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত বড় ভাই অভি।
সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘শিশুটির বাবা-মা যখন শিশুটিকে ফেলে যায় মানবিক কারণে আমাদের মনে হয়েছে শিশুটি দায়িত্ব আমরা কেনো নিতে পারবো না। সবার কাছে দোয়া চাই শিশুটিকে যেনো আদর-যত্নে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে পারি।’
গল্পের শুরুটা গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের। সেদিন সকালে ফেনীর জেলা সদর হাসপাতালের সিঁড়ির নিচ থেকে কান্নার শব্দ শুনে উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে।
খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নাম রাখে জান্নাতী নূর। লালন পালনের দায়িত্ব নেন উইক্যান্ড চেঞ্জ সোসাইটি নামের একটি সংস্থা।
শিশুটিকে দত্তক নিতে অনেকে আবেদন করেন। যাচাই বাছাই শেষে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ড, সময় সংবাদের ফেনী ব্যুরো ইনচার্জ রিপোর্টার বখতিয়ার মুন্না আবেদনটি গ্রহণ করেন।
নতুন পরিবার জান্নাতী নূর নাম পরিবর্তন করে বড় ভাই ওহি ইসলামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখা হয় কায়নাত ইসলাম রুহি।
শিশুটিকে পাওয়ার সময় হিসেব করে ২৫ অক্টোবর জন্ম তারিখ দিয়ে জন্ম নিবন্ধন করেছেন নতুন বাবা-মা।

