একাত্তর বাংলাঃ পাকিস্তানের খ্যাতনামা আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর (৬৬) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
রোববার লাহোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন আসমা জাহাঙ্গীর। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করে।
১৯৫২ সালে লাহোরে আসমা জাহাঙ্গীরের জন্ম। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সেদেশের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনের সহ-সভাপতিও ছিলেন তিনি।
পাকিস্তানের মানব এবং মহিলা অধিকার, সংখ্যালঘু ও শিশুদের ধর্মীয় অধিকার নিয়ে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন আসমা। হুদুদ অধ্যাদেশ ও পাকিস্তানে ইসলামীকরণের বিষয়ের অংশ হিসেবে জেনারেল মুহাম্মদ জিয়া-উল-হকের ব্লাসফেমি আইনের কড়া সমালোচক তিনি।
২০০৭ সালে পাকিস্তানে আইনজীবীদের ঐতিহাসিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল আসমা জাহাঙ্গীরের। ওই আন্দোলনে অংশ নেয়ার জন্য তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়।
আসমা জাহাঙ্গীরের শিক্ষাজীবন: পাকিস্তানের স্বল্পসংখ্যক মুসলিম মহিলা হিসেবে তিনি উচ্চতর শিক্ষালাভ করেন। আসমা লাহোরের কিন্নাইর্দ কলেজ থেকে স্নাতক ও ১৯৭৮ সালে আইনে স্নাতকধারী হন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রী পান।
এছাড়াও সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গালেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রীসহ কানাডার কুইন্স ও কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী লাভ করেন।

