নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান-মহাসচিবকে পদ থেকে সরে যেতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব৷ তারা নির্বাচনে জাপার ভরাডুবির জন্য দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে দোষারোপ করছেন।
নেতারা অভিযোগ করেন, ভোটের মাঠে দলের প্রার্থীদের কোনো সহযোগিতা করেননি তারা৷ উল্টো ২৬টি আসনে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন তারা।
বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন জাপার বিক্ষুব্ধ নেতারা।
এ সময় পুলিশের বাধা টপকে বনানী কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন জ্যেষ্ঠ নেতা ও অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জহিরুল আলম রুবেল, লিয়াকত হোসেন খোকা, মীর আবদুস সবুর আসুদ, সুনীল শুভ রায়, ইমরান হোসেন মিয়া, ঢাকা উত্তর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পাঠান।
তারা সেখানে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মো মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ শুরু করেন৷ পরে তাদের কার্যালয়ের বাইরে পাঠিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা৷
এ সময় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহান হক বলেন, ‘আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য রয়েছে৷ তাই আমাদের ফোর্স বনানী কার্যালয়ে অবস্থান করবে৷’
জাপার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এ সময় দলীয় কার্যালয়ের বাইরে স্লোগান দেন৷ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সমর্থকরা দুটি বাসে করে বনানী কার্যালয়ে আসেন৷ তাদের পর আসেন জাপার কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা৷ বাবলা কার্যালয়ে ঢুকতে গেলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন৷ পরে দলীয় কার্যালয়ের বাইরে সংবাদ সম্মেলন করেন জাপার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাহিদুর রহমান টেপা৷
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে রক্ষা করা এবং পার্টির ঐক্য বজায় রাখার জন্য আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জিএম কাদের এবং মুজিবুল হক চুন্নুকে তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর তারা তাদের পদ থেকে অপসারিত বলে বিবেচিত হবেন।
জাতীয় পার্টির নতুন কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, এই পর্যায়ে গঠনতান্ত্রিক ভাবে পার্টিতে একজন ভারপ্রাপ্ত বা নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করে জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। এখন একান্ত প্রয়োজনে কিছু রদবদল ব্যাতীত পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য পদে অধিষ্ঠিত নেতারা স্বপদে বহাল থাকবেন।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, যেসব অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ কেলেঙ্কারী হয়েছে এবং ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। জাতীয় পার্টির যে সব প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন, আগামীতে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। এই মূহুর্তে পার্টিকে সুসংগঠিত করে একটি জাতীয় সম্মেলন করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।
এ সময় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মীকে বঞ্চিত করা হয়েছে৷ নির্বাচনের সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি৷ জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য কারো সঙ্গে কথা না বলে কেবল তিন চারজন মিলে আসন সমঝোতার বৈঠক করলেন৷ এটা অনৈতিক ও অন্যায়৷ জাপার নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।
জাপা কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ চলাকালীন জাপার নবনির্বাচিত ১১ জন এমপি আজ জাতীয় সংসদে শপথ নিয়েছেন৷ শপথ গ্রহণ শেষ হওয়ার পরে তারা দুপুর ২টা অবধিও বনানী কার্যালয়ে আসেননি৷
জাপা মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাড়া দেননি৷
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টুও ক্ষোভ ঝাড়েন শীর্ষ নেতাদের প্রসঙ্গে৷ ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৪ আসনে তিনি সংসদ সদস্য প্রার্থী হলেও তিনি পরে সরে দাঁড়ান৷
বিক্ষুব্ধ এ নেতা সাংবাদিকদের বলেন, আজকে সরা বাংলাদেশ থেকে ২৬৮ জন প্রার্থী বনানীতে এসেছেন৷ চেয়ারম্যান ও মহাসচিব একটা মাস আমাদের অন্ধকারে রাখলেন। নির্বাচনের আগে তারা বললেন, কী নাকি কৌশল আছে? কী সেই কৌশল তা আমাদের বললেন না। সেই কৌশল কি আমাদের পানিতে ফেলে দেওয়া?
ভোটের ফলাফলে ভরাডুবির পরে দলে ধস নেমেছে উল্লেখ করে সেন্টু বলেন, সমঝোতার ২৬টি আসনের সব কটিতে জিততে পারলাম না৷ আসন সংখ্যা ১১ তে নেমে এসেছে৷ দল জিরোতে নেমে গেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় জেল-জুলুমের মধ্যেও জাপা ৩৫টি সিটে জিতে আসে৷ ধীরে ধীরে সে আসন সংখ্যা কেন কমছে, আমরা চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে জিজ্ঞাসা করবো৷

