একাত্তর বাংলা
‘ওই যে পূর্ব তোরণ-আগে/ দীপ্ত নীলে, শুভ্র রাগে/ প্রভাত রবি উঠলো জেগে/ দিব্য পরশ পেয়ে/ …./অতীত নিশি গেছে চলে/ চিরবিদায় বার্তা বলে/ কোন আঁধারের গভীর তলে/ রেখে স্মৃতিলেখা’- রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ এভাবেই নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আজ ১ জানুয়ারি, ২০২৪ সাল। গতরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বর্ষ গণনা। বদলে গেল ক্যালেন্ডারের পাতা। প্রকৃতির আপন নিয়মেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরও একটি বছর, বিদায় ইংরেজি ২০২৩, স্বাগত ২০২৪। হ্যাপি নিউ ইয়ার (শুভ নববর্ষ)।
বাংলদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষই নতুন বছরকে বরণ করে নেয় বুকভরা আশা আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে। রাতের আঁধার পেরিয়ে ভোরের পূর্বাকাশে আজ রক্তিম আভা ছড়িয়ে ফুটে উঠল নতুন বছরের নতুন সূর্য। বিদায়ী ২০২৩ সালের সব দুঃখ-বেদনা, হতাশা-গ্লানি ভুলে প্রাণে নতুন নতুন স্বপ্ন-আশা নিয়ে নতুন করে পথ চলা শুরু, অতীতকে ভুলে নয়, অতীত স্মৃতি বুকে আঁকড়ে ধরেই নতুনের সঙ্গে পথ চলাই জীবনের নিয়ম। নতুন বছরে নতুন আলো, শান্তি ও সাফল্যের প্রত্যাশা জাগ্রত হয় মানুষের মনে।
নতুন বছরে শান্তিপ্রিয় মানুষের চাওয়া- বন্ধ হোক দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, বন্ধ হোক ফিলিস্তিনে নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের ওপর গণহত্যা, বন্ধ হোক প্রাণঘাতী যুদ্ধ, জয় হোক বিশ্বমানবতার!
সময় চলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় অনেক কিছুই। এর মধ্যে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। পেছনে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই। এটাই পরম সত্য।
গেল বছরের হিসাবের খাতায় চোখ বুলালে দেখা যাবে সেখানে জমা হয়ে আছে অনেক অতৃপ্তি, অনেক কষ্ট ও স্বজন হারানোর কান্না। কিন্তু তবুও বরাবরের মতো এবারও নতুন সূর্যালোকে অসীম আশা ও স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরের যে যাত্রা শুরু হলো তা সার্থক হোক। ফুটুক নবতর জীবনের ফুল। বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক- এটা সবারই কাম্য।
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৪ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সাধারণত নববর্ষকে সামনে রেখে সারাবিশ্বে বিদায়ী বছরকে বিদায় জানাতে এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক উৎসবের আয়োজন করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র দেশ টোঙ্গা, কিরিবাতিতে ২০২৩ সালকে প্রথম বিদায় জানানো হয় এবং নতুন বছরকে বরণ করা হয়।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অফিস ও নানা সংগঠনও প্রতিবছর তাদের প্রিয়জনদের বরণ করে নিয়ে থাকেন। দিনটিকে তারা বিদায়ী বছরের সফলতা ও ব্যর্থতাকে পুনর্বিবেচনা করে এবং নতুন বছরে নতুন লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য পরিকল্পনা করে। একই সঙ্গে তারা নতুন বছরে অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রয়োজনে সে কাজগুলো চিহ্নিত করে।
দেশের অবকাঠামো, অর্থনীতি, কৃষি, আইটি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন এবং মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করাসহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের জন্য ২০২৩ সালকে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নববর্ষ উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দেশের মানুষকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নানাভাবে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করছে।
সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গত ২৭ ডিসেম্বর দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

