নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৮৯১ জন প্রার্থী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং প্রতি আসনের জন্য একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভোটের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। ভোটে অংশগ্রহণকারী কোন প্রার্থী নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব না দিলে তার ২ থেকে ৭ বছরের জেল হতে পারে।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) ইসির নির্বাচন শাখা থেকে প্রকাশিত পরিপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪৪(গ) অনুযায়ী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন (ফরম-২২) যথাযথভাবে দাখিল না করলে অথবা এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ লঙ্ঘন করলে আদেশের অনুচ্ছেদ ৭৪ অনুযায়ী তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধের দায়ে দায়ী হবেন। আদেশে উক্ত অপরাধের জন্য জরিমানাসহ কমপক্ষে ২ বছর ও অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ভোটারদের উৎসাহিত ও নিরুৎসাহিত করা যাবে না
নির্বাচন কমিশনের অপর এক পরিপত্রে- সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের কেউ উৎসাহিত ও নিরুৎসাহিত না করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের নির্ধারিত ৪শ’ গজের মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণার উদ্দেশ্যে পোস্টার, হ্যান্ডবিল বা ঐরূপ কোন প্রকার প্রচারপত্র থাকলে তা ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। কেউ যেন ভোটের জন্য প্রচার করতে না পারেন বা কাউকে ভোটদানের জন্য উৎসাহিত বা নিরুৎসাহিত করতে না পারেন, সেই দিকে কড়া নজর রাখতে হবে। কোন ব্যক্তি এই নির্দেশনা অমান্য করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এর ৭৯ ধারা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির ন্যূনতম ৬ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।
ভোটারদের বহনে যানবাহন দিতে পারবেন না প্রার্থীরা
শনিবার ইসির প্রকাশিত আরও এক পরিপত্রে- ভোটগ্রহণের দিন ভোটারদের বহনের জন্য প্রার্থীরা কোন ধরনের যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্দেশনায় বলা হয়েছে- প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এবং সমর্থকরা যাতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনয়নের জন্য কোন প্রকার যানবাহন ব্যবহার করতে না পারেন অথবা আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করেন সে বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের করণীয় ও বর্জনীয় দিকগুলো উল্লেখ করে সতর্ক করে দিতে হবে। অন্যথায় আচরণ বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সারাদেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ১০৩টি। আর ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন।

