রেজাউল করিম সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ পরিশ্রম সু-ভাগ্যের চাবি কাঠি, ভিক্ষা নয়। পরিশ্রমই বদলাতে পারে একজন মানুষের ভাগ্য। কিন্তু তা যদি হয় অল্প বয়সে সেটা বড় বেদনার। এত অল্প বয়সে সংসারের বোঝা কাঁধে উঠবে তা জানা ছিল না ছোট্ট ছেলে হাবিবের। দূর্ঘটনায় আজ পিতা শয্যাশায়ী। তাই পিতার অসুস্থতায় সংসারের হাল ধরছে শিশু হাবিব। হাবিব ২৮ নং বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনাটি সরিষাবাড়ি উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চর বালিয়া গ্রামের রিক্সাভ্যান চালক রিপনের পরিবারে। জানা যায় যে, ডোয়াইল ইউনিয়নের চর বালিয়া গ্রামের দরিদ্র রিপন রিক্সাভ্যান চালিয়ে অতি কষ্টে সংসার চালাতো। তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন কষ্টের মধ্য দিয়ে চলছিল তার সংসার।
গত কয়েক দিন আগে হঠাৎ দূর্ঘটনায় আহত হয়ে শয্যা শায়িত হয় রিপন। বন্ধ হয়ে যায় তার উপার্যন। চুলায় আগুন জ্বলেনা তার। জুটেনা চিকিৎসার খরচও। পিতার এমন অবস্থা দেখে ঠিক থাকতে পারেনি ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিব (১০)। সংসারে একমাত্র রোজগারের বাহন রিক্সাভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়। রিক্সাভ্যান চালিয়ে প্রতি দিন দুই-তিন’শ টাকা আয় হয় । সে টাকা দিয়েই তার অসুস্থ পিতার ঔষধ ও সংসারের চাল-ডাল কিনে আনে হাবিব। ছোট এক ভাই ৩য় শ্রেণিতে পড়ে। একমাত্র ছোট বোনটি শিশু শ্রেণির ছাত্রী।
গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনে দেখা মিলে শিশু রিক্সাভ্যান চালক হাবিবের। কথা হয় শিশু বয়সে রিক্সাভ্যান চালনা নিয়ে। বুকে চাপা কষ্ট নিয়ে তার পরিবারের অবস্থা তুলে ধরে হাবিব।
হাবিব জানায়, কয়েক দিন আগে তার পিতা রিক্সাভ্যান চালাতে গিয়ে পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পায়। তারপর থেকে রিক্সাভ্যান চালাতে পারে না। সংসার চলছিল না। বাবার চিকিৎসার খরচ ও সংসারে মা ও ছোট-ভাই বোনের মুখের আহার যোগাতে আর কোন উপায় ছিল না। তাই অন্য কোন উপায় না পেয়ে রিক্সাভ্যান চালাতে বাধ্য হই। প্রতিদিন দুই-তিন’শ টাকা আয় হয়। এ দিয়ে বাবার ঔষধ ও চাল ডাল কিনি। কথাগুলো বলার সময় শিশু হাবিবের দুচোখে অশ্রু ঝলঝল করছিল। তার চোখের ভাষায় বুঝাতে চায় এমন কোন হৃদয়বান আছে কি? যারা আমার পরিবারকে সাহায্য করবে?

