স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড, মোস্তাফিজুর রহমান নিয়োগ বানিজ্য, আশালিন আচারন, দুর্ণীতি- অনিয়মের ফলে ভেঙ্গে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ।প্রচার আছে, জামাত মদদ পুষ্ট হওয়ায় ক্ষমতার হাত এমনটাই প্রসারিত যে দেখে -শুনে সব সহ্য করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। প্রশাসনিক কাজের তেমন কোন অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা না থাকার পরেও তার মদদ পুস্ট উপ-রেজিস্ট্রার পদে যোগদান করিয়ে একের পর এক শিক্ষক করছেন বলির পাঠা! দায়িত্ব নিয়েই তিনি কাজী মাজবুব ইলাহী চৌধুরীকে অভিজ্ঞতার শর্ত পুরণ ছাড়াই এবং কম্পিউটার পরিচালনায় ন্যূনতম জ্ঞান না থাকায় ৬ মাসের সময় দিয়ে কম্পিউটারে দক্ষতা অর্জন সাপেক্ষে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্ণীতি ও অনিয়ম কার্যক্রমের শুরু করেন। তবে জাল সনদ ও ভুয়া অভিজ্ঞতা দিয়ে উপ-রেজিষ্ট্রার পদে তার নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক পদে নিয়োগ লাভের জন্য তিরি সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ শর্তাবলী শিথিল করে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তাদের নিকট আত্নীয়দের কাজে লাগিয়েছেন। এছাড়া ছাত্রলীগের বাবুকে বিভিন্ন বানিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। বিভিন্ন সময়ে মেয়েদের প্রতি অশালিন আচারন করার বহু অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেটের ৫৪তম সভায় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি বিজ্ঞান বিষয়টি বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সিন্ডিকেট সদস্যদের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে ১৩ই মে ২০১৮তারিখে বিজ্ঞপ্তিতে ঐ বিষটি অন্তর্ভুক্ত করেন ক্ষমতাধর ভিসি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত করলেও সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য চারটি প্রথম বিভাগ ও তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করায় বিভাগীয় প্লানিং কমিটি, এর অনুকুলে ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু না করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের করেন। ভিসি সেই সিদ্ধান্তকেও বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে গত ২২শে সেপ্টেম্বর ৬১তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বাদ দেয়া কৃষি বিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্তি করেই পুর্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুণরায় বিভাগীয় প্লানিং কমিটিকে প্লানিং করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির আপত্তির মুখে ২৯/৩/২০১৯ তারিখে সিন্ডিকেটের ৬২ তম সভায় শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে হলেও হুমায়ুন কবীর কে যে কোন মুল্যেই শিক্ষক পদে নিয়োগ দেবেন বলে জানা গেছে । পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আশরাফ সিদ্দিকী তার এই অবৈধ নিয়োগে সন্মতি নয় বিধায় তার বিরুদ্ধে জাতীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় প্রচারে লিপ্ত হয়েছে। ভিসি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য ন্যয়-অন্যায়ের তোয়াক্কা না করেই প্রশাসন চালাচ্ছেন। রেজিস্ট্রার দপ্তরের বিএনপি পন্থি সেকশন অফিসার এফ এম রেজাউল করিম সবুজের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন যিনি উপাচার্যের ও খুব আস্থাভাবজন কর্মকর্তা।
গত ৬১তম সিন্ডিকেট সভায় বিএনপি পন্থি তিনজন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা (১০ম গ্রেড) যেমন হল সুপার আক্তার উদ্দিন, হল সুপার নাসরিন আক্তার, স্টোর অফিসার নাজমুল হুদাকে প্রথম শ্রেণিতে (৯ম গ্রেড) আপগ্রেডেশন না দিয়ে সরাসরি সহকারী রেজিস্ট্রার (৭ম গ্রেড) পদে আপগ্রেডেশন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে নবসৃষ্ট এডিশনাল রেজিস্ট্রার/সমমানের পদ ছাড়করণই ছাড়াই নিয়ম বর্হিভূতভাবে তিনি নিজেসহ বিএনপি পন্থি কর্মকর্তাদের এডিশনাল রেজিস্ট্রার/সমমানের পদে আপগ্রেডেশন দিয়েছেন। কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর আমিনুল হক ফেইসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্ট্যাটার্স দিলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে প্রমোশন দিয়েছেন। তার মনমত না হওয়ায় নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী গত ২৯/০৩/২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৬২তম সভা অনুমোদন করলেও চারজন কর্মকর্তার আপগ্রেডেশন আটকে দিয়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতিসহ সার্বিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সারাক্ষণ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে দলাদলি সৃষ্টিতে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে সরকার শিক্ষারমান উন্নয়নে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বার্থনাশি মহলের কারনে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।

