নিজের ভাষায় তিনি ধর্ষণের ফসল। সামাজিক নগ্ন অভিধারায় জারজ সন্তানও বটে। শূন্য মরুভূমির নিরব তাঁবুতে তার মাকে ধর্ষণ করে রেখে যান এক গোত্রপতি। কি দুর্ভাগ্য দেখুন জন্মের দিন মারা যান সেই প্রত্যাখ্যাত মাও। নানী বলেছিলেন বেদুঈন ঘরের সন্তান রাখাল হও শিক্ষার কি দরকার?
বিষণ্ন মরুভূমির সেই ধর্ষণের ফসল আজ বিলিয়নিয়ার। তিনি বর্তমানে ফ্রান্সের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। নাম মোহেদ আলত্রাদ বাদাআই।
তিনি আলত্রাদ গ্রুপের মালিক। অথচ নিচের জন্ম তারিখ জানেন না তিনি। বেদুঈন সন্তান তাই রাখাল হওয়ারই কথা ছিল মোহেদের কিন্তু নানীর কথাটা মানেন নি তিনি। নানীর ঘুমের মাঝে গোপনে বেরিয়ে যেতেন তাবু থেকে। সিরিয়ার মরুভূমির তপ্ত বালুর উপর খালি পায়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে উপস্থিত হতেন শিক্ষালয়।
স্কুলে ভর্তি হওয়ার অর্থ অবশ্য ছিল না তার। তাই দেওয়ালের ফাঁকে উঁকি দিয়ে শুনতেন শিক্ষকদের কথা আর দেখতেন তারা কি লিখছেন বোর্ডে। খুব বেশি যে বুঝতেন তা নয়। তবুও মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকা আরকি। একদিন এভাবেই তাকে দেখে ফেলেন এক শিক্ষক। তখন তাকে সুযোগ দেন ক্লাস করার।
সুযোগ পেয়ে ক্লাসে খুব ভালো করতে থাকেন মোহেদ। কিন্তু বেদুঈন সন্তানের এমন নৈপুণ্য! ঈর্ষা হত সতীর্থদের। তাই গভীর মরুভূমিতে গর্ত খুঁড়ে তাকে ফেলে আসে তার সতীর্থরা।
মোহেদ অবশ্য হার মানেননি বরং পেয়ে গিয়েছিলেন জীবনের পথচলার বড় অবলম্বন। তার নিজের ভাষায় আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ছিল ভাগ্যকে মেনে না নেওয়া।
১৯৬৯ সালে মোহেদ শিক্ষা বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান ফ্রান্সে। তখন ফ্রান্সে একদিকে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ অন্যদিকে আরব-বিরোধী মনোভাব। তখন ফরাসিটাও ঠিকঠাক জানতেন না মোহেদ। পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের ক্লাসে শিক্ষকদের কথার এক-দশমাংশ বুঝতেন না। তবে অদম্য আগ্রহের ভাষাটা পুরোপুরি শিখে নেন তিনি। পকেটে মাত্র ২০০ ফ্রাঁ নিয়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। জীবন চালাতে তাই আঙ্গুরের ক্ষেতেও কাজ করতে হয়েছে তাকে।
এভাবেই একসময় কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি লাভ করেন এই বেদুঈন সন্তান। পাস করে মোহেদ কাজ নেন কয়েকটি বিখ্যাত ফরাসি কোম্পানিতে। যোগ দেন আবুধবি জাতীয় তেল কোম্পানিতে। কিন্তু তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না তাতে। জমানো অর্থে চার বন্ধু প্রতিষ্ঠা করেন একটি কোম্পানি।
যা মূলত পিসি বা পোর্টেবল কম্পিউটার তৈরি করত। এভাবেই ৬ লাখ ডলার সঞ্চয় করেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে কিনে নেন দেউলিয়া হবার দ্বারপ্রান্তে থাকা একটি স্ক্যাফোল্ডিং কোম্পানি। সেখান থেকেই উত্থান আজকের বিলিয়ানিয়ার মোহেদ আল আলত্রাদের। বর্তমানে ফ্রান্সের একটি রাগবি ক্লাবের মালিক এই আরব বেদুঈন। ব্যবসার পাশাপাশি টুকটাক লেখালেখিও করেন তিনি। প্রকাশিত হয়েছে তার কয়েকটি উপন্যাস। তার প্রথম বই Badawi স্কুলের পাঠ্য। জন্ম তারিখ না জানলেও মোহেদ অবশ্য জন্মদিন পালন করেন। লটারির মাধ্যমে বাবার জন্য একটি দিন বেছে নিয়েছেন তার সন্তান। প্রতিবছর ৯ মার্চ জন্মদিনের কেক কাটেন মোহেদ আলত্রাদ বাদাআই।

