ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহ মহানগরস্থ আকুয়া এলাকার নিবাসী যুবলীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম শপুু হত্যাকান্ডের মূলহোতা দ্বিতীয় স্ত্রী নিহত যুবলীগ নেতা আজাদ শেখের বোন ইতিকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
নিহতের লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পুলিশ মূল ঘাতক ইতিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদ সহ ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যার বিঅপরাধবরণসহ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে।
পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে ইতি জানায় তার স্বামী শফিকুল ইসলাম শপুু প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখায় ও একাধিকবার নিহত আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এ জন্যই ইতি পরিকল্পিতভাবে নিজ স্বামীর হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। তিনি পুরো ঘটনা বলতে পুলিশের কাছে সময়ও চেয়ে শুনার জন্য অনুরোধ জানান।
শহরের বাঁশবাড়ি কলোনীর সুরুজ মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম শপুু। দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী মাহমুদার ঘরে তার একটি পুত্র সন্তান আছে। পরে আকুয়া হাবুন বেপারীর মোড় সংলগ্ন আকুয়া মোড়লপাড়া নিবাসী নিহত যুবলীগ নেতা শেখ আজাদের বোন আফরোজা শেখ ইতির সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে বিয়ে করেন। বিয়ে করে ইতিকে নিয়ে শফিকুল ইসলাম শপুু আজাদের বাড়িতেই বসবাস করতে থাকে।
অপর দিকে নিহত আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা ও শপুুকে সমালোচনা হতে থাকে। একাদিক বার ইতির চোখে ধরাও পড়ে বিষয়টি। এতে ইতি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে এবং স্বামীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১০ জুন তার স্বামী শফিকুল ইসলাম শপু প্রথম স্ত্রী মাহমুদার কাছে যায়। ইতি ঐ বাড়িতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম শপুুকে দেখতে পায়। এ নিয়ে ইতির মারাত্বক ক্ষোভ দেখা দেয়। সিদ্ধান্ত নেয় আজ রাতে যে কোনো একটি ঘটনা ঘটাবে। রাতে শফিকুল ইসলাম শপুু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির বাসায় এসে প্রতিদিনের মত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
এই সুযোগে পূর্ব পরিকল্পনামাফিক, ইতি নিজের ওড়না দিয়ে তার ঘুমন্ত স্বামী শপুুকে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। হত্যার পর ভোর রাতে বিছানার চাদর দিয়ে স্বামীর লাশ পেঁচিয়ে পাশের পুকুরে কঁচুরি পানার নিচে লুকিয়ে রাখে। এ সময় ইতি হত্যায় ব্যবহার করা তার নিজের ব্যবহৃত ওড়না পুকুরে ফেলে দেয়।
ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবির এসআই মোঃ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান শুরু করে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ইতিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আফরোজা শেখ ইতি হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

