কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জে নরসুন্দা নদীর পাড়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এবং জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য দু’পাড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়। কিš‘ সেই ওয়াকওয়ের পাশে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলে তা ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এতে পথচারীসহ পৌরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
নরসুন্দা নদীর পাড় দিয়ে নির্মিত শহরের বড়বাজার থেকে গৌরাঙ্গবাজার সেতু পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ওয়াকওয়েতে বড়বাজারের ময়লা-আবর্জনা ও জবাই করা পশুর বর্জ্যরে দুর্গন্ধে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। ওই এক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে বড়বাজারের ও কাচারি বাজারের পেছনে সব ধরণের ময়লার পলিথিন, পচা কাঁচামালসহ জবাই করা পশুর বর্জ্যে নদীর পাড়ে এমন অবস্থা হয়েছে তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কোন উপায় নাই। প্রতিদিন বাজারের সব ধরণের আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। বেকায়দায় পড়ে উৎকট গন্ধে নাক চেপে ধরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ওয়াকওয়ে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কেউ একবার এখান দিয়ে এলে দ্বিতীয়বার আর আসতে চায় না। পৌরসভা ময়লা না ফেলার নির্দেশনা দিয়ে সাইনবোর্ড দিলেও সাইনবোর্ডের নিচে ময়লার স্তূপ করে রাখা হয়।
পরিবেশ আন্দোলনের নেতা অধ্যক্ষ শরীফ আহমেদ সাদী বলেন, লেকের পাড়ে এমন অবস্তা হয়েছে যেন দেখে বোঝার উপায় নেই যে কোটি টাকা ব্যয় করে নরসুন্দা নদীর পাড়ের কাজ হয়েছে। ময়লা-আবর্জনা এমনভাবে ফেলা হয়েছে যেন মানুষের কোনো কান্ডজ্ঞান নেই। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলতে হয়। অথচ কর্তৃপক্ষও যেন এ ব্যাপারে নীরব দর্শক।
কিশোরগঞ্জ বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনী বলেন, প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা তাঁদের ময়লা এক জায়গায় স্তূপ করে রাখেন। কিন্তু পৌরসভার গাড়ি সঠিক সময়ে না আসায় বাধ্য হয়ে তাঁরা অন্য কোথাও জায়গা না পেয়ে ওই ময়লা-আবর্জনা নরসুন্দা লেকের ওয়াকওয়ের পাশে ফেলে রাখেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ পারভেজ মিয়া বলেন, বারবার বড়বাজারের ব্যবসায়ীদের ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য বললেও তারা যেন কর্ণপাতই করছেন না। ময়লার গাড়ি যাওয়ার আগেই তারা সব ময়লা এনে নরসুন্দার পাড়ে ফেলে রাখেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহদী হাসান বলেন, নরসুন্দা নদীর পাড়ে ময়লা ফেলা খুবই অন্যায় কাজ। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। তারা যদি সতর্কতা না মানেন তবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিহীত ব্যব নেওয়া হবে।

