একাত্তর বাংলা রিপোর্টঃ জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ এর তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর শামীম হত্যার রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে হত্যার মূল আসামী গ্রেফতার করে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার টিম। এ তথ্য জানান, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন (ক্রাইম এন্ড অপস্) (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত), ময়মনসিংহ।

পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শামীম হোসেন (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) জানান, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে জাতীয় জরুরী সেবা ‘৯৯৯’ এর মাধ্যমে জনৈক ব্যক্তি মুক্তাগাছা থানাধীন তারাটি ইউনিয়নের বিরাশীস্থ মাদ্রাসার পিছনে জনৈক আঃ সাত্তারের পতিত আবাদী জমির উপর অজ্ঞাতনামা একজন কিশোরের লাশ পড়ে আছে বলে জানায়। খবরটি পেয়ে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ এবং ডিবি পুলিশের একটি চৌকষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে ডিবি পুলিশ পড়ে থাকা লাশটি শামীম মিয়া (১৬), পিতা-সিরাজ মিয়া, মাতা-অজুয়া বেগম, সাং-তারাটি (চরপাড়া), থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ হিসেবে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। ভিকটিম শামীম মিয়া পেশায় একজন অটোচালক। শামীম হত্যা সংক্রান্তে মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং-১৪, তারিখ-২০/০১/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-৩৯২/৩০২/২০১, পেনাল কোড ১৮৬০)।
পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শামীম হোসেন আরো জানান, এ ঘটনায় সমগ্র মুক্তাগাছা থানা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার এর দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে এসআই শাহ্ মিনহাজ উদ্দিন ও এসআই পরিমল চন্দ্র সরকার (পিপিএম) এর তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর তদন্ত শুরু করে এবং সঙ্গীয় অফিসারফোর্সসহ হত্যার ঘটনার ২৪ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫ ঘটিকায় শামীম হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত মূল হত্যাকারী মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২৩) কে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শামীম হোসেন এসময় জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মোঃ রাকিবুল ইসলাম তথ্য দেয় সে পেশায় একজন ভ্যানচালক। বিগত কয়েকদিন যাবত তার কিছু অর্থের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। গত প্রায় দুই মাস আগে সে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে আড়াই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা লোন নিয়েছে, যা প্রতি সপ্তাহে তিন হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করে আসছে। ঋণগ্রস্থ অবস্থায় আসামী কিস্তির টাকা পরিশোধে অপারগ হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশী অটোচালক ভিকটিম শামীমের সাথে ভাড়া নেওয়া অটো গাড়ীটি বিক্রি করবে চিন্তা করে। সেই মোতাবেক গত ১৯ জানুয়ারি আনুমানিক বিকাল ২ ঘটিকায় মুক্তাগাছা থানা এলাকার ফকিরগঞ্জ বাজার থেকে আসামী রাকিবুল এবং ভিকটিম শামীম ভাড়ায় চালিত অটোরিক্সা নিয়ে অনেকক্ষণ বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করতে থাকে। একসময় জামালপুর জেলার সদর থানাধীন নরুন্দি বাজারে যায়। সেখানে আনুমানিক বিকাল ৫টা ৩০ ঘটিকায় তারা অজ্ঞাত একজন ব্যক্তির কাছে গাড়িটি দশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। ভিকটিম শামীম দশ হাজার টাকা নিয়ে আসামী রাকিবুলকে মাত্র দুই হাজার টাকা দিলে আসামী ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে সে ভিকটিম শামীমকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ঘটনাস্থল মুক্তাগাছা থানার বিরাশি গ্রামের একটি নির্জন জায়গায় যায়। এরপর অনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ ঘটিকায় ভিকটিম শামীমের পরিহিত জ্যাকেটের ফিতা টান দিয়ে খুলে তার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারাটি ইউনিয়নের মাদ্রাসার পিছনে ফেলে রেখে চলে যায়। আসামী রাকিবুল ইসলামকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাইমেনুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) তাহমিনা আক্তার। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা সংস্থার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক হোসেন, এসআই পরিমল সরকার, এসআই শাহ মিনহাজ উদ্দিন, এসআই রেজাউল আমীন বর্ষণসহ পুলিশ সদস্যগণ।

