মতিন রহমানঃ-বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর প্রতিনিধি এবং একাত্তর টেলিভিশনের বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যার ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল।
রোববার (১৮ জুন) দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক সহ জহির উদ্দিন স্বপনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের গোমের চর গ্রামের বাড়িতে যান। সেখানে প্রতিনিধি দল সাংবাদিক নাদিমের কবর জিয়ারত করেন এবং তার বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানদের সাথে কথা বলেন। প্রতিনিধি দল এসময় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের পাশে থাকার ঘোষণা করেন।এসময় সাংবাদিক নাদিম হত্যার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেছ আলী মামুন, জামালপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা, সাংবাদিক নাদিমের বাবা আব্দুল করিম, বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মানিক সওদাগর, সদস্য সচিব ফকরুজ্জামান মতিন, যুগ্ন আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তালুকদার, যুগ্ন আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম কারী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ সাদা , বকশীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বিপ্লব সওদাগর, সদস্য সচিব মাহাবুবুর রহমান লাভলু সহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি ও বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চায় না, মানুষের স্বাধীনতা চায় না তারাই সাংবাদিক নাদিম হত্যা করেছে। যারাই এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকুক দেশের মানুষ এর বিচার চায় ,বিএনপিও এই হত্যার বিচার চায়।
উল্লেখ্য,সংবাদ প্রকাশের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ জুন (বুধবার) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক নাদিম বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ বাজারের পাটহাটি এলাকায় বাবু তার সন্ত্রাসীদের নিয়ে বেদম প্রহার করতে থাকে। একপর্যায়ে ভিকটিম নাদিমের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বাবু ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরের দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক নাদিম মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান অভিযুক্ত করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ ঘটনায় মোট ১৩ জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে যার মধ্যে মুল হোতা সাধুরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর ৫ দিন, ৬ আসামীকে ৪ দিন এবং ৬ আসামীর ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালত।

