সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ সদর দলিল লিখকদের কম্পাউন্ডে কি হচ্ছে সকলেরই জানা। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। সাব-রেজিস্ট্রি ও দলিল লিখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির সহায়তায় সন্ত্রাসীরা দেদারসে চালাচ্ছে ভূমি ক্রেতা ও নকল আবেদনকারীদের কাছে চাঁদাবাজি।
একটি বিশেষ মহলের ইশারায় সবকিছু ঘটছে এবং প্রতিবারই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে অদৃশ্য মহাশক্তিধরের কৃপায়। মনে হচ্ছে এখানে কিছুই ঘটছে না, সবই অলৌকিক! দন্ডিত হচ্ছে ভুমি ক্রেতা-বিক্রেতা ও নকল আবেদনকারীরা।
তথ্য সূত্রমতে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক শ্রী বানু সরকারের মৃত্যুর পর তৎকালিন সাব-রেজিস্ট্রিার দলিল লেখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির সহযোগীতায় সন্ত্রাসী বাহিনীকে ডেকে এনে তিনি স্বরনাপন্ন হন। এরপর সাব-রেজিস্ট্রিার সুকৌশলে অফিসে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে কিছু দিন দলিল রেজিস্ট্রিকার্য ও নকল ডেলিভাড়ী বন্ধ রাখেন।
এ সুযোগে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা ক্ষমতা অপপ্রয়োগ করে দলিল লেখকদের বিভাজন করে অফিসের পরিস্থিতি সঙ্কটাপন্ন করে তুলে। অফিসে বিশৃঙ্খলার সুযোগে সাব-রেজিস্ট্রার রাজনৈতিক ক্ষমতাধর চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করে জনদূর্ভোগ লাগবে সন্ত্রাসীদের মহরায় দলিল রেজিস্ট্রি কার্যাধি ও নকল প্রস্তুত করণ কাজ শুরু করেন।
ময়মনসিংহের সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকদের একটি বৈধ পুর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বিগত ও বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার দলিল লেখক সমিতির কতিপয় ব্যক্তির মাধ্যমে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আতাত করে প্রতিটি দলিলে ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক নিম্নতম ৫ হাজার থেকে প্রকার ভেদে ৫০ হাজার এমনকি লাখ টাকার চাঁদা আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ থেকে ২শতাধিক দলিল হয়ে থাকে।
দুর্নীতি পরায়ন জেলা রেজিস্ট্রার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে সেই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আতাত করে অফিস পরিচালনা কাজ ও দলিল প্রতি তাদের নির্ধারিত উৎকোচ বানিজ্য অব্যাহত রাখেন। উৎকোচ বাণিজ্যের তালিকায় রয়েছে প্রতি ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যের দলিলে সেরেস্তার নামে ৩ হাজার টাকা উৎকোচ দেয়া দলিল দাতা গ্রহিতাদের বাধ্যতামূলক। পরবর্তী ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার দলিল মূল্যের ৫ হাজার টাকা উৎকোচ দেয়া দলিল দাতা গ্রহিতাদের বাধ্যতামূলক বলে সূত্র জানায়।
এছাড়াও দলিল পূর্ণাঙ্গ করতে আনুসাঙ্গীক কাগজপত্রে হেরফের থাকার কারণে সাব রেজিস্ট্রার তথা তার চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীর করা অলিখিত নিয়ম মোতাবেক টাকা না দিলে দলিল আর রেজিস্ট্রি হয় না। এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন সহ অপমানের গ্লানী সহ্য করতে হয়েছে এমন বহু ঘটনা রয়েছে।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে চাঁদাবাজি বন্ধে বক্তব্য দেয়ায় তার বাসা ও চেম্বারে হামলা করে এই চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী। হামলার ফলে মহানগর সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে মহানগর আওয়ামী লীগ কমিটি ও মহানগরের ২১টি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দেলন গড়ে তুলেন।
নেতাকর্মীরা প্রশাসনের কাছে মোখিক ও লিখিত বহু অভিযোগ পত্র পেশ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেন। কিছুদিন চাঁদাবাজি বন্ধও ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারনে কোন অবস্থাতেই নাগরিক হয়রানি ও অর্থ ভর্তুকি চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। নেতারাও নীরব রয়েছেন অদৃশ্য দাওয়াইয়ে। এক উপজেলার জমি অন্য উপজেলায় রেজিস্ট্রি করা সম্ভব নয় বলেই ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাগণ ব্যাংকিং চালান বাদে অতিরিক্ত টাকা ভর্তুকি দিয়েই দলিল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সূত্রমতে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি দলিল হলেও সাব রেজিস্ট্রারের কেরানির কাছে কয়েক লক্ষ অবৈধ টাকার স্তুপ পরে থাকে। যা সাব-রেজিস্ট্রার ও চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের মাঝে প্রতিদিন রাতে ভাগাভাগি হয়। ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটলেও নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে কেউ বলার সাহস পাচ্ছে না।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এই অরাজগতা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ২০১৬ সন থেকে। তৎকালিন সাব-রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম ও জেলা রেজিস্ট্রার এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। এরপরে যারা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সাব-রেজিস্ট্রার হিসাবে যোগদান করেছেন, তারা একই পথ অবলম্বন করেছেন। ফলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা কামাই করছে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অসাধু চক্র।
জেলা রেজিস্ট্রারের প্রধান সহকারী কাজল বাবু প্রায় ১ যুগ ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার সুবাধে স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে সখ্যতা বজায় রাখেন। আর বনে গেছেন কোটিপতি।
তিনি নামধারী চাঁদবাজ সন্ত্রাসী বাহিনীদের সাথে আতাত করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নাগরিক সুবিধাকে বঞ্চিত করে ভূমি ক্রেতা বিক্রেতাদের অর্থ দন্ডিত করে যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায় দাড়িয়েছে, যা ঘটছে সবই মামুলি বিষয়। বলার কেও নেই, সন্ত্রাসীদের ভয়ে সবাই নিরব দর্শক। জেলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কি নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে? সেটাই দেখার বিষয় !

