সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক প্রনোদনা ও রেশন পাওয়ার লক্ষ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ১৩৮টি কিন্ডারগার্টেনের দুই সহস্রাধিক শিক্ষকের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সরিষাবাড়ী কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ আন্নু মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আঃ মান্নান রোববার (৩ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমদ এর নিকট আবেদনটি দাখিল করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম মানিক।
করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় সরিষাবাড়ী উপজেলার কিন্ডারগার্টেনগুলোও দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সরিষবাড়ীর প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী উপার্জনহীন হয়ে পড়েছেন। যাদের জীবীকা নির্বাহ চলতো কিন্ডারগার্টেন হতে পাওয়া মাসিক নামমাত্র বেতন আর টিউশনিতে, যার সবই এখন বন্ধ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আর্থিক সহযোগিতা ও রেশন চেয়ে সরিষাবাড়ী কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন রোববার (৩ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব আহমদ এর নিকট একটি আবেদন দাখিল করেন।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। যেখানে কর্মরত রয়েছে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র ও মেধাবী দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। যারা দরিদ্র পিতা-মাতাকে চাপ না দিয়ে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারছে নিজেদের পড়াশোনার খরচ। আবার অনেকে জীবীকা নির্বাহের একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষাকতাকেই। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধু থাকায় এইসকল শিক্ষকবৃন্দ হয়েছেন কর্মহীন ও উপাজর্নহীন। তাদের অনেকের সংসার চলছে অর্ধাহারে-অনাহারে। শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করায় সমাজে তারা সম্মানী ব্যক্তি। আর এই সম্মান ধরে রাখতে আহারহীন পেটেও সমাজে চলতে হচ্ছে হাসি মুখে। যেন তাদের দেখার কেউ নেই, সবাই ভাবছেন তারা ভালো আছেন, তারা সুখেই আছেন। বাস্তবে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। তাদের অতিকষ্টে জীবনযাপনের বিষয়টি মাথায় নিয়ে সরিষাবাড়ী কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনর কর্তৃপক্ষ এ আবেদন করেন।
অপরদিকে বেশিরভাগ কিন্ডারগার্টেন ভাড়া বাসায় শতভাগ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। এই করোনা নামক মহামারির কারণে উপজেলার অনেক কিন্ডারগার্টেন বন্ধের পথে। যেখানে কর্মরত প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ। যদি এইভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হয় তাহলে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা ছাড়া পুনরায় চালু করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তাই অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো ব্যক্তিমালিকানাধীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন সরিষাবাড়ী উপজেলার সকল কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

