সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি :
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে পিতা-পুত্র মিলে অকুল নামের এক পাওনাদারকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অকুলের নাক দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন তাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।
জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের উদনাপাড়া গ্রামের রিপন মিয়ার পুত্র শাহিন মিয়া একই গ্রামের আব্বাছ মন্ডলের পুত্র রোকনুজ্জামান অকুলকে ঢাকা নিয়ে যায় এবং তার অধীনে মিস্ত্রির কাজ করায়। কাজের কিছু টাকা দিলেও শাহিন মিয়া কিছু টাকা বাকী রেখেই অকুলকে বিদায় দেয়। পরে শাহিন মিয়ার নিকট বাকী টাকা চাইতে গেলে দেই-দিচ্ছি দেই দিচ্ছি বলে দীর্ঘদিন যাবত কালক্ষেপন করে আসছে।
২৫ মার্চ আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার সময় অকুল পাওনা টাকা চাওয়ায় শাহিন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এবং কৌশলে ছোট ভাই শামীম ও পিতা রিপন মিয়াকে ডেকে এনে তিনজনে রোকনুজ্জামান অকুলকে এলোপাথারীভাবে পাইরপিট করে গুরুতর আহত করে। এতে অকুলের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম হয়। অকুলের ডাক-চিৎকারে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে থাকলে শাহিন, ছোট ভাই শামীম ও তার পিতা রিপন মিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে জানা যায়। পরে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য তাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ঘটনার দিন বিকেলে সাংবাদিকের একটি দল খবর সংগ্রহের জন্য রোকনুজ্জামান অকুল ও শাহিন মিয়ার বাড়িতে যায়। অকুল মিয়ার বাড়িতে লোকজন পাওয়া গেলেও শাহিন মিয়া, শামীম মিয়া ও তার পিতা রিপন মিয়া কাউকে বাড়ীতে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী অনেকে বলেন অকুল একজন ঝামেলাহীন নিরীহ মানুষ। অকুলের সাথে কারোর সাথে কোন দিন প্রয়োজন ছাড়া দু’কথা হয়নি। এমন একজন লোককে মেরে জঘন্যতম কাজ করেছে। শাহিন, শামীম ও তার পিতা রিপন মিয়ার উচিৎ বিচার হওয়া দরকার।

