সুমন ভৌমিকঃ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের একযুগ পূর্তি উপলক্ষে ২৫ জানুয়ারি সোমবার বিকেল ৩ঘটিকায় শহীদ মিনার চত্বর টাউনহল প্রাঙ্গনে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে গণজমায়েত অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে) শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন গণপুর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরিফ আহাম্মেদ এমপি, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু, ময়মসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে গণজমায়েত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী ছাড়া কোন সংগঠনকে এগিয়ে নেয়া যায় না। আমি আপনাদের মত তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এক কর্মী। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন কোন সেলফিবাজির রাজনীতি চলবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি বলেন একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল। মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী চক্র সপরিবারে হত্যা করেছিল। কিন্তু ভাগ্যগুনে বেঁচে গিয়েছিলেন তার দুই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা।
তিনি আরো বলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লক্ষ মানুষ আত্মহুতি দিয়েছিলেন, ২ লক্ষ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছিল ও ১ কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-যুবক ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যসহ সকলে মিলে আমরা স্বাধীনতা এনেছিলাম।
এসময় তিনি বলেন স্বাধীনতার সেই লাল টকটকে সূর্য আরও উজ্জল হতো বঙ্গবন্ধু যে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক (অর্থনৈতিক মুক্তির ডাক) দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী চক্ররা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ২য় বিপ্লবকে থামিয়ে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন বিশ্ব আজ ২ভাগে বিভক্ত, শোষক আর শোষিত। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমি শোষিতের পক্ষে।
এসময় তিনি আরো বলেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে দলকে সুসংগঠিত করেছেন, দলকে শক্তিশালী করেছেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, বিএনপি-জামাতের অগ্নি সন্ত্রাস মোকাবেলা করেছেন, যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছেন, আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন ৭৫ এর ১৫ আগস্ট যারা বাংলার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেছিল।
এসময় শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন যে সব রাষ্ট্র আমাদেরকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা’র অভূতপূর্ব উন্নয়ন দেখে সেই রাষ্ট্রগুলো এখন বলে যাও বাংলাদেশ উন্নয়ন দেখে আস, বাংলাদেশ থেকে শিখে আস।
তিনি বলেন বিশ্বের বড় বড় রাষ্ট্র করোনাকালীন সময়ে যখন নাজেহাল, সেই সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরে অন্নের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতুর কাজ সম্পন্ন করছেন আর যেখানে কাজ শুরুর পূর্বেই বিভিন্ন দেশ দুর্নীতির কল্পকাহিনী রচনা করেছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল চক্রান্ত নস্যাৎ করে উন্নয়নের এমন ধারা বজায় রেখেছেন যে বিশ্ব ব্যাংক পরবর্তীতে বিভিন্ন সেক্টরে এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগে ফিরে এসেছে।
ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে গণজমায়েত অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন আওয়ামী লীগ যেন আবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে সে চিন্তা মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের কাজে কর্মে মানুষের কাছে সে আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের ভরসা, আস্থা, ভালোবাসায় আমাদের বিএনপির বিরুদ্ধে রাজপথে দাড়াতে হয় না। মানুষ জামাত-বিএনপির কাছ থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছেন। সেই জায়গায় দাড়িয়ে আমাদের কাজ শুধু একটাই শেখ হাসিনার মুখটি যেন উজ্জল রাখি। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আস্থার জায়গা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

