একাত্তর বাংলাঃ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ হলেও বসবাসরতদের ৮০ শতাংশই বহিরাগত।
ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির চিত্র এমনই। মাসে ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকায় প্রতি ইউনিট ভাড়া দিচ্ছেন কর্মচারীরা। এ ধরনের কর্মচারীদের বরাদ্দ বাতিলের দাবি শ্রমিক নেতাদের।
শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে ঢুকতেই অলি-গলি, রাস্তাঘাটে, দেয়ালজুড়ে বাড়ি ভাড়ার বিজ্ঞাপন চোখে পড়বে খুব সহজে।

শত শত পোস্টারের সবক’টি বিজ্ঞাপনই শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির সরকারি বাসাকে ঘিরে। ভাড়া নিতে আগ্রহী সেজে সময় টিভির প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন পোস্টারে দেয়া একটি মোবাইল নাম্বারে।
ঠিকানামত বি ব্লকের ৩২ নাম্বার বাসায় গিয়ে দেখা যায় বসবাসকারী একজন বহিরাগত। বাসাটি তিনিও ভাড়া নিয়েছেন আরেক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে।
বি ব্লকে ৮ ইউনিট বিশিষ্ট এমন বাসা রয়েছে ৫০টি, যার প্রায় সবটিতেই বসবাস করেন বহিরাগতরা। তিন কক্ষ বিশিষ্ট প্রতি ফ্লাটের ভাড়া ১২-১৮ হাজার টাকা। গ্যাস, পানি আর বিদ্যুৎ সবই সরকারি, ফলে ভাড়ার অভাব হয়না রেল কলোনিতে।
অথচ রেলের অনেক কর্মচারী আবাসিক সংকটে ভুগছেন, এমন তথ্য জানিয়ে রেলের শ্রমিক নেতারা বলছেন যারা বসবাস করছেনা তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের নামে বরাদ্দ দেয়া হোক।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ৪র্থ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মনির আহম্মেদ বলেন, ‘যাদের কলোনিতে থাকার ইচ্ছা নেই, তাদের অন্য জায়গায় বাসা নেয়াটাই দরকার। তাহলে বিকল্প আইনগতভাবে অন্য কেউ পাবে।’
দেশের সব রেল কলোনির একই রকম পরিস্থিতি স্বীকার করে, সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজান।
দক্ষিণ শাহজাহানপুরে ২৫ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা কলোনিতে চারতলা ভবন রয়েছে ১০৮টি। যেখানে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর আড়াই হাজার চাকরিজীবী পরিবারের নামে বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

