নিউজ ডেস্ক
কুড়িগ্রামের রৌমারীর ধর্মপুর সীমান্তে দিন-দুপুরে গরু পাচারের চেষ্টাকালে গ্রামবাসীর সঙ্গে চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এই সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছোড়া গুলিতে দুই বাংলাদেশির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ধর্মপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৫৭ সীমানা পিলারের কাছে এই ঘটনা ঘটে। আহত জব্বার মিয়া (৫২) উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যজনের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে কাঁটাতারের বেড়া কেটে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় নবাব মিয়া (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়রা আটক করে দাঁতভাঙ্গা ক্যাম্পে জানালে তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিজিবি। এ ঘটনায় রৌমারী থানায় মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। আটক নবাব মিয়া ধর্মপুর উত্তপাড়া গ্রামের মৃত জয়নালের ছেলে বলে জানা গেছে।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাজাহান আলী জানান, দুপুরে সীমান্তের কাছে বসবাসকারীরা সীমান্তের ১০৫৭ নম্বর পিলারের কাছে নোম্যান্সল্যান্ডে পতিত জমিতে গরু-ছাগল চড়াচ্ছিলেন। তখন একদল গরু চোরাকারবারি সীমান্তের কাছে ভারতের ব্রিজের নিচে দিয়ে গরুপাচার করতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের গালিগালাজ করে বলেন ‘তাদের (চোরাকারবারি) জন্য সীমান্তে অশান্তি হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে ধারালো কাঁচির আঘাতে সহিদুর রহমান (৩২) নামে একজন আহত হন। এ দৃশ্য ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর থানার কুহুরমারা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যদের চোখে পড়লে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। ককটেলও বিস্ফোরণ ঘটান। বিএসএফের ছোড়া গুলিতে জব্বার মিয়া নামে এক বাংলাদেশির পিঠে বিদ্ধ হলে তাকে বাড়িতে নেয়া হয়। আরও একজনের কানে গুলি লাগার কথা শোনা গেলেও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান জানান, বিজিবি বাদী হয়ে আটক নবাব মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আসামিকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হবে।
এদিকে সীমান্তবাসীর মাধ্যমে জানা গেছে, এই ঘটনার পর অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্যের টহল দেখা গেছে। বাংলাদেশেও বিজিবির নিয়মিত টহলে অতিরিক্ত সদস্য ছিল। যদিও অনুপ্রবেশের দ্বায়ে একজন আটকের বিষয়টি ছাড়া কোনো কথা বলতে চাননি বিজিবির জামালপুর ৩৫ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা।
তিনি জানান, বিএসএফের অতিরিক্ত সদস্য অবস্থানের বিষয়টি তারা দেখেননি। বিজিবি সদস্যের সংখ্যাও বাড়ানো হয়নি। ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন সীমান্তে চোরাকারবারিদের প্রতিহত করতে সচেষ্ট রয়েছে বিজিবি।
কয়েকদিন আগে একই সীমান্তে ভারতীয় গরু আটক করতে গিয়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ বাঁধে। এতে দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়।

