নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরে ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সারাদেশে ৪২ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪ হাজার ৭৭১ জন আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের (ডিআরইউ) সাগর রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২৩: এমএসএফের পর্যবেক্ষণ’ শিরোনামে প্রতিবেদন উপস্থান করেন এমএসএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সাঈদুর রহমান।
সাঈদুর রহমান জানান, চলতি বছরে নির্বাচনি সহিংসতার ১৩৮টি ঘটনায় ১০জন নিহত হয়েছেন। মুখোশ পরে গুপ্ত হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন।
২০২৩ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ১৫টি ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক ৮৯টি অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ বছরে পুলিশ হেফাজতে ১৭ জন, কারা হেফাজতে ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে অজ্ঞাতনামা ৩৫২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বছর সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৬২টি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৩ জন।
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২৭ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
২০২৩ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮১ আর এ বছর তা কমে হয়েছে ৬৩।
এ সম্মেলনে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা কামাল মানবাধিকার পরিস্থিতিতে তার উদ্বেগের কথা জানান গণমাধ্যমকর্মীদের।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের উদাসীনতায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় রাষ্ট্র যে খুব বেশি মনোযোগী হয়েছে এ কথা আমরা বলতে পারি না। যখন আমরা মানবাধিকারের কথা বলছি সরকার অনেক বেশি ডিফেন্সিভ কথাবার্তা বলেছে, আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বলেছে। যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেছে তাদেরকে একটি বৈরীতার জায়গায় নিয়ে গেছে। রাষ্ট্র মানবাধিকার সুরক্ষার কোনো দায়দায়িত্বে নেই। বরং মনে হয়েছে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের বিরক্ত করেছি। তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য কখনো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমাজে মানবাধিকারের নীতি বা বোধ জাগাতে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো কর্মসূচি তাদের নেই। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেই চলবে। মানুষের মন মানসিকতার উন্নয়নের বিষয়ে তাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই।’
মানবাধিকার ইস্যুতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে খবরের কাগজ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে সুলতানা কামাল বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি, তাদের অন্তর্নিহিত অনেক দুর্বলতা রয়েছে। যেখানে মানবাধিকার ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা সর্বজনগ্রাহ্য নাগরিক ব্যক্তিত্বদের সেখানে বছরের পর বছর নেতৃত্বে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, জনবল ও তদন্ত করার ক্ষমতা তা খর্ব করা হয়েছে। এ কমিশনের কাজগুলো হওয়ার কথা প্যারিস প্রিন্সিপালের আলোকে। তবে প্যারিস প্রিন্সিপালের নীতিগুলো ফলো করা হয়নি। এ কারণে আমরা যথেষ্ট শক্তিশালী স্বাধীন কমিশন তৈরি করতে পারিনি।’

