একাত্তর বাংলাঃ “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো..!!” রবি ঠাকুরের এই আগমনী গান দিয়ে শুরু হয় বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাসের প্রথম দিন।
রাজধানী ঢাকাতে পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। এই দিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহবান জানান।
রমনার বটমূলকে ঘিরে অনুষ্ঠিত যে এতো আয়োজন; তার ইতিহাস কি আমাদের জানা? কবে থেকে বা কিভাবে শুরু হলো এর আয়োজন?
স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃত পক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠির নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সাল থেকে ছায়ানটের এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা।
এর সূত্রপাত: প্রয়াত ড. নওয়াজেশ আহমদ ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমিক একজন বিজ্ঞানী। ২০০৭ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এক স্মারক বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন কিভাবে রমনা বটমূলের পহেলা বৈশাখের সূত্রপাত হয়।
“১৯৬৭ সালে তাকে বলা হলো ‘এবার বাংলা নববর্ষ বাইরে করব। তুমি একটা গাছ দেখো।’
আমার ওপর ভার দিল ওয়াহিদুল। আমি ওয়াহিদুলকে রমনা বটমূলের কথা বললাম। রমনা বটমূলে আজ যেখানে অনুষ্ঠান হয় সেটা আসলে বট নয়। অশ্বত্থ।
আমরা বট বলেই চালিয়ে দিয়েছিলাম। জায়গাটা এখন যেমন, তখন তেমনটা ছিল না। চারদিকে শুধু জঙ্গল আর ঘাসে ভর্তি। তবু আমি ওয়াহিদুলকে বললাম জায়গাটা কিন্তু খুব শান্ত। কোলাহলমুক্ত। ছায়ানটের ছেলে-মেয়েদের ভালোই লাগবে। সে রাজিও হলো। সারারাত আলো জ্বেলে ছায়ানটেরকর্মীরা সেই ঘাস কাটলো, জঙ্গল পরিষ্কার করলো। এভাবেই ছায়ানটের বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হলো।”
দেখতে দেখতে ৫০ বছরে পা দিলো রমনার বটমূলে বর্ষবরণ আয়োজন। ছায়ানটের আয়োজনে নেচে গেয়ে বরণ করে এবারও উদযাপন করা হচ্ছে বাঙালির এই সর্বজনীন লোকউৎসব। তবে মজার বিষয় হলো রমনার বটমূল খ্যাত গাছের নাম অশ্বত্থ এটিই বাঙালী তার উৎসবে মেতে থাকলেও গোপন রহস্য জানেনা।।

