সুমন ভৌমিকঃ গতকাল ১ এপ্রিল সোমবার হোটেল আমির ইন্টারন্যাশানালে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বর্ধিত সভায় মহানগর আওয়ামী লীগ ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তৃণমূল কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিল। কিন্তু বর্ধিত সভাটি শেষ না হওয়ার কারনে আজ ২ এপ্রিল মঙ্গলবার পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বর্ধিত সভায় নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিলররা উপস্থিত হয়, তাদের মূল্যবান ভোট প্রয়োগ করার জন্য। বর্ধিত সভাকক্ষটি কানায় কানায় পরিপূর্ন ছিল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রিয় মুখ ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত। তুমুল করতালির মাধ্যমে কাউন্সিলররা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্বাগত জানায়। অপরদিকে বাহিরে রাস্তায় অবস্থান করে কয়েক হাজার সমর্থক। তারা শান্তকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। আর “ শান্ত ভাইকে মেয়র চাই” শ্লোগানে শ্লোগানে পুরো এলাকা মূখরিত হয়ে উঠে। কাউন্সিলরবৃন্দরা দাবি তোলেন ভোটের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে সিন্ধান্ত নিয়ে তা কেন্দ্রে প্রেরণ করার জন্য।
কিন্তু ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের বলেন আপনারা যদি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেন তাহলে আমরা দু’জন সিন্ধান্ত নিবো। এতে তৃণমূল কাউন্সিলররা উত্তেজিত হয়ে গেলে সভাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করে। উপস্থিত কাউন্সিলরবৃন্দগন এক বাক্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তকে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় ১ নম্বরে দেখতে চায় এবং শান্ত’র নামে স্লোগানে সভাকক্ষ উত্তালে কেঁপে উঠে।
কিন্তু তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিপুল কন্ঠ ভোটে সমর্থন প্রাপ্ত শান্ত মহানগরের সভাপতি এহেতেশামুল আলমকে সন্মান জানিয়ে তালিকায় ১ নম্বরে লিপিবদ্ধ করার দাবী জানান এবং তৃণমূল কাউন্সিলররা সেটি মেনে নেয়।
ময়মনসিংহের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম বটবৃক্ষ জীবন্ত কিংবদন্তী সাবেক ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এর সুযোগ্য সন্তানের ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ এর রাজনীতিতে অনন্য বিড়ল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। ময়মনসিংহ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে শান্ত’র এমন সিদ্ধান্ত সন্মানের দিক বয়ে আনে।
বিশেষজ্ঞ মহলের ধারনা, শান্ত তার পিতার চেয়েও জনপ্রিয়তায় একদিন অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে যাবে। উপস্থিত অনেকেই ধারনা ময়মনসিংহে “শান্ত’র বিকল্প শান্ত” নিজেই। তার প্রজ্ঞাবানিত রাজনীতির কৌশলের সাথে প্রতিদন্ধিতা করার মত তিনি অদ্বিতীয়।
এদিকে প্রথমদিন বর্ধিত সভায় সম্ভাব্য প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইকরামূল হক টিটু উপস্থিত থাকলেও পরদিনের সভায় উপস্থিত থাকেননি! এ নিয়ে দলীয় কিছু নেতা-কর্মীদের মাঝে গুঞ্জন চলছে এবং ময়মনসিংহের সাবেক পৌর মেয়র ও বর্তমান সিটি প্রশাসক ইকরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সহ-সভাপতির পদে থেকেও বর্ধিত সভার চুড়ান্ত সময়ে অনুপস্থিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
দলীয় তৃণমূল এক কাউন্সিলর বলেই ফেলেছেন, যারা হাইব্রীড রাজনীতি করে, অর্থই যাদের রাজনৈতিক সত্ত্বা তারা তৃণমূল কাউন্সিলরদের ভোট ও সমর্থনকে ভয় পায়। উল্লেখ্য যে প্রথমদিনে বর্ধিত সভার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় গতকাল ২য় দিন পুনরায় বর্ধিত সভার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

