সুমন ভৌমিকঃ ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করেছিলেন সাবেক বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অর্থ খরচ করে চালানো হয়েছিল সচেতনতামূলক কার্যক্রম। কিন্তু খোদ বিভাগীয় নগরীতে চলছে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসা। জেলার বিভিন্ন বাজারগুলোতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন। আর এই পলিথিনে মুড়েই পণ্য বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

বিভাগীয় নগরের মেছুয়া বাজার, চরপাড়া মোড়ের বাজার, নতুন বাজার, মিন্টু কলেজ রেলক্রসিং বাজার, সানকিপাড়া রেলক্রসিং বাজার, সানকিপাড়া শেষ মোড় বাজার, বাকৃবি শেষ মোড় বাজারসহ নগরের বিভিন্ন দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচায় দেদারছে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নিষিদ্ধ পলিথিন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নগরের যাদব লাহিড়ী লেন-এ মেছুয়া বাজারে নিষিদ্ধ পলিথিনের পাইকারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে চোরাকারবারি চিত্তরঞ্জন দে (চিত্ত)। চিত্ত নামটি নগরীতে “পলিথিন চিত্ত” নামে খুবই পরিচিত। পুলিশের সাথে তার রয়েছে বেশ সখ্যতা। পুলিশের নজরদারির অভাবে চোরাকারবারি চিত্তরঞ্জন দে (পলিথিন চিত্ত) চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসা।

গত ২১ এপ্রিল ভোর সোয়া ৪টার দিকে গৌরীপুর উপজেলার বেলতলী এলাকায় র্যাব-১৪ অভিযান চালিয়ে কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্যসহ ১৮ জন চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় থ্রি-পিচ, লেহেঙ্গা, জিরা, শাড়ি, সাবান, মেহেদী, চকলেট, ক্রিম উদ্ধার করা হয়। সেই ১৮ জন চোরাকারবারিদের মধ্যে মূল হোতা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দে (পলিথিন চিত্ত)।

সূত্র জানায়, প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ দিন যাদব লাহিড়ী লেন-এ মেছুয়া বাজারের প্রবেশদ্বার স্বদেশী বাজারে রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক গাড়ি করে অসংখ্য বস্তার ভিতরে নিষিদ্ধ পলিথিনের চালান চিত্তরঞ্জন দে (পলিথিন চিত্ত) নিয়ে আসে। স্বদেশী বাজার রোডে মেছুয়া বাজারের প্রবেশদ্বারে চিত্ত বেশি লেবার খাটিয়ে তড়িগড়ি করে নিষিদ্ধ পলিথিনের চালানটি নামিয়ে মেছুয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও বাজারের পরিচিত ব্যক্তিদের গোডাউনে রেখে দেয়। এরপর দিন সকালে মেছুয়া বাজারের বিভিন্ন দোকানে সয়লাব এবং বিভিন্ন উপজেলার দোকানগুলোতে নিষিদ্ধ পলিথিন পৌঁছে যায়। আর এই পলিথিনে মুড়েই পণ্য বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়াও চোরাকারবারি চিত্তরঞ্জন দে (পলিথিন চিত্ত) জিরা, গোল মরিচ, সাদা এলাচ, কালো এলাচ, দারুচিনি ও লবঙ্গসহ বিভিন্ন ভারতীয় মসলার চালান মাঝে মধ্যে নিয়ে আসে সূত্র জানিয়েছে। মেছুয়া বাজারের ব্যবসায়ী জানান, পুলিশ সবই জানে কিন্তু রহস্যজনক কারনে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সরকার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন ও বিক্রি অনেক আগেই নিষিদ্ধ করেছে। পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সর্বনিম্ন শাস্তি ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করারও বিধান রয়েছে আইনে। এ আইনের প্রয়োগ না থাকায় চিত্তরঞ্জন দে (পলিথিন চিত্ত) এর মত ময়মনসিংহ বিভাগের নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করেছিলেন তা বাস্তবায়নে কাগজপত্রে রয়ে গেছে।

