সুমন ভৌমিকঃ দূর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের একটি মন্দিরে কথিত কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে দেশের কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, সিলেট, খাগড়াছড়ি, গাজীপুর, ভোলা, বরিশাল, রংপুরসহ সারা বাংলাদেশের মন্দির, মঠ, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট এবং ধ্বংস-যজ্ঞ পরিচালনাকালে ইস্কন মন্দিরের এক প্রভুসহ ৪ জন মৃত্যু বরণ করে ও বহুলোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার এসব ঘটনায় মোট ৭১টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং প্রায় পাঁচশ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচী অনুযায়ী ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে গণঅনশন, গণঅবস্থান ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করা হয়। গণঅনশন ও গণঅবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেছেন ময়মনসিংহ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ বিকাশ রায় এবং সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পবিত্র রঞ্জন রায়।
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী রাষ্ট্র। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান মুসলমান নারী-পুরুষের রক্ত ও ইজ্জতের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের ধর্ম পালনে এবং রাষ্ট্র প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জানমাল এবং নিরাপত্তা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর।

২৩ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঐতিহাসিক ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে ‘ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ গণঅনশন ও গণঅবস্থান পালন করে। পরে অনশনকারীদের মুখে জল দিয়ে অনশন ভাঙ্গানো হয়। উক্ত কর্মসূচীতে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সম্প্রদায় সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
গণঅনশন ও গণঅবস্থানের পর ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মহানগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এসময় ময়মনসিংহ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ বিকাশ রায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে গণঅনশন ও গণঅবস্থানে অংশগ্রহণ এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ বিকাশ রায়, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আরেং মং, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সুজিত বর্মন, ময়মনসিংহ মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি এডঃ প্রশান্ত কুমার দাস চন্দন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন ভৌমিক, ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডঃ রাখাল সরকার, সহ-সভাপতি এডঃ পিযুষ কান্তি সরকার, সাধারণ সম্পাদক এডঃ সৌমেন্দ্র কিশোর চৌধুরী, ময়মনসিংহ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডঃ তপন দে, সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব সরকার সহ ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ এবং ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া গণঅনশন ও গণঅবস্থানে অংশগ্রহণ এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও ময়মনসিংহ মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ সহযোগী সংগঠন। এছাড়াও গণঅনশন ও গণঅবস্থানে অংশগ্রহণ এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দরা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে আমরা সংক্ষুব্ধ, বিক্ষুব্ধ। এবারের শারদীয় দূর্গাপূজায় যে ঘটনা ঘটেছে, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক কর্মচারীদের নিষ্ক্রিয় চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে বিচার করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের জনগণের মাঝে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করতে হবে।
এছাড়া বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্সনীতি গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সাম্প্রদায়িক মহলের সর্বনাশা চক্রান্ত প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনে আহবান জানান।

