সুমন ভৌমিকঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চলমান লকডাউনে স্বল্প আয়ের ও দুস্থ মানুষের জন্য ২০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকালে ময়মনসিংহ নগরীর গাঙ্গিনাপাড়ে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ৫ টাকায় ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
৫ টাকায় ইফতার সামগ্রী সরবরাহ কর্মসূচি ৪র্থ দিনেও অব্যাহত রয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার এর নির্দেশে এই ইফতার সমগ্রী দুস্থ, দরিদ্র, অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। ৫ টাকায় ইফতার প্রতিকী মূল্য হিসাবে নেয়া হচ্ছে।
ইফতার এর আইটেমের মধ্যে ছিল মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, শসা, খেজুর, আঙুর, কলা ও জিলাপী। জেলা পুলিশের আয়োজনে প্রতিকী মূল্যের বাহারী ইফতার নগরজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে। কেউ কেউ বলছে লকউাউনে কামাই-রোজগার নেই। বেশি টাকা দিয়ে ইফতার কিনা অসম্ভব। তাছাড়া লকডাউনে দুস্থ, দরিদ্র, ও শ্রমজীবী মানুষেরা অসহায়। এই পরিস্থিতিতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ৫ টাকায় বাহারী ইফতার সত্যিই প্রশংসনীয়। “পুলিশ মানবিক” তার পরিচয় কাজ করে দেখিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩শ মানুষকে এই ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করা হয়।
জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে স্বল্প আয়ের ও দুস্থ মানুষের জন্য ৫ টাকায় ইফতার সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। রমজান মাসব্যাপী এই ইফতার সামগ্রী সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
৪র্থ দিনে ৫ টাকায় ইফতার সামগ্রী সরবরাহকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান মিয়া বলেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ছিন্নমূল ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। লকডাউনে যাদের জীবন-যাপন কষ্টে অতিবাহিত হচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর এটি সামান্য প্রয়াস ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের। ৫ টাকা নামমাত্র মূল্যে ইফতার সরবরাহ করে আমরা ৫৫ টাকা ভর্তুকী দিচ্ছি। আপনাদের মনে অনুভুতি জাগবে, ৫ টাকায় আমাদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছেন। ফ্রি নিচ্ছেন না।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান (বিপিএম-সেবা) এই ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার দুস্থ ও স্বল্প আয়ের লোকজনদের পাশে থেকে একটি নতুন সেবা চালু করেছেন। তিনি সরকারের লকডাউনের নিয়মনীতি মেনে চলার জন্য ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে আহবান জানান।
৪র্থ দিনে ইফতার সামগ্রী সরবরাহকালে উপস্থিত ছিলেন, ময়মনসিংহ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলাল উদ্দিন (সদর সার্কেল), ময়মনসিংহ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা সংস্থা’র অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ (পিপিএম-বার) সহ পুলিশের সদস্যগণ।

