একাত্তর বাংলাঃ প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে রানের পাহাড় গড়েছে স্বাগতিকরা। দুই সেঞ্চুরি আর দুই ফিফটিতে বাংলাদেশের চেয়ে ২১৭ রানে এগিয়ে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দিনশেষে তাদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৪৫১ রান। দ্বিতীয় দিনে কিউইরা তুলেছে ৩৬৫ রান। এর আগে প্রথম ইনিংসে ২৩৪ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা।
প্রতিপক্ষকে কেউ কখনো রনকৌশল শেখায়? প্রশ্নই ওঠেনা। তবু নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশের জন্য হতে পারেন আদর্শ। শিখিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেটে কিভাবে টেস্ট মেজাজ ধরে রাখতে হয়!
আগের ইনিংসে টাইগারদের দিশেহারা ব্যাটিংয়ের পর, কিউই ব্যাটসম্যানরা হয়ে উঠলেন টেস্ট ক্রিকেটের মুর্ত প্রতীক। প্রতি মুহূর্তে স্বাক্ষর রেখে গেছেন অভিজাত ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্যে। ছাড়ার বল ছেড়েছেন, মারের বলে সজোরে হাঁকিয়েছেনও। লাথাম-রাভালরা ধীরস্থির, খোলস ঝেড়ে রুদ্রমুর্তিরূপে উইলিয়ামসন-নিকোলসরা।
রাভাল-লাথাম ৮৬ রানে দিন শুরুর পর উদ্বোধনী জুটিতে সেই রান টেনে নিয়েছেন ২৫৪ পর্যন্ত। গড়েছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটির রেকর্ডও। রেকর্ডময় সেই জুটি ভাঙেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানো রাভাল ফেরেন ১৩২ রানে।
এরপর আবারো দীর্ঘ অপেক্ষা। ৩৩৩ রানে লাথামকে সাজঘরে ফেরান আরেক খন্ডকালীন বোলার সৌম্য সরকার। লাথামের সংগ্রহ ১৬১ রান।
মাত্র চার রানে অভিজ্ঞ রস টেলরকে ফেরান ওই সৌম্য সরকার। পুরো দিনে এইটুকু সময়ে বাংলাদেশ হেসেছে অল্প সময়ের ব্যবধানে
সেই হাসি কেড়ে নিয়েছেন কেইন উইলিয়ামস ও হেনরি নিকোলস। দুজন খেলেছেন অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে। ৫৩ রান করা নিকোলসকে মেহেদি মিরাজ ফিরিয়েছেন তবে ৯৩ রান করে উইলিয়ামসন জাগিয়ে রেখেছেন আরো একটি সেঞ্চুরির স্বপ্ন।
সেই স্বপ্নটায় রং ছড়িয়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররাই। ৮৪ রানে উইলিয়ামসনের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন, দিনের সেরা পারফরমার সৌম্য সরকার।
ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ের পর, টাইগার বোলারদের নির্বিষ বোলিং আতঙ্ক ছড়াতে পারেনি। ফিল্ডিংয়ে সহজ সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। কিউইদের ব্যাটিং দৃঢ়তার চেয়ে বাংলাদেশের দুর্বলতাই যেন বেশি ফুটে উঠলো মাত্র দুইদিনে।

