একাত্তর বাংলাঃ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে এক হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এ সময় মোদি বিচ্ছিন্নতাবাদ দমনের কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ ভারতের অখণ্ডতা ভাঙতে চাইলে তা বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে ট্রুডো কানাডা ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।
ভারত সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অনেকটা উপেক্ষিত। এমন অভিযোগের সুরে কানাডার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম খবর ছাপে। চারদিকে যখন এমন কানাঘুষা, ঠিক সেসময় সফরের এক সপ্তাহের মাথায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা হলো ট্রুডোর। দিল্লিতে সপরিবারে দেয়া হলো লাল গালিচা সংবর্ধনা।
শুক্রবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় বেশ কয়েকটি চুক্তি। এর মধ্যে অন্যতম পরমাণু সহায়তা এবং তথ্য-প্রযুক্তি সেবার উন্নয়ন অন্যতম। এরপর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অনেকটা কড়া ভাষায় বক্তব্য দেন মোদি। শিখদের নিয়ে আলাদা খালিস্তান রাষ্ট্র গঠনে ট্রুডো প্রশাসনের নরম সুরের ফলেই হয়ত অনেকটা কড়া সুর ছিল মোদির কণ্ঠে।
এসময় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে যারা ব্যবহার করে, তাদের কোনো জায়গা হবে না। ভারতের অখণ্ডতা, ঐক্য ও সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করলে বরদাস্ত করা হবে না। এছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করতে চাই আমরা।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দেন দু’দেশের ব্যবসায়িক উন্নতির বিষয়ে। বলেন, আগামী দিনগুলোতে ভারত-কানাডা অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘অনেক ভারতীয় কানাডায় থাকেন। তাদের শক্তি অনেক। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়িক উন্নতি সাধান করতে হবে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।’
৮ দিনের জন্য ভারত সফরে আসা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিরুদ্ধে খালিস্তানপন্থীদের অধিকারের প্রশ্নে সমর্থনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কূটনৈতিকদের মতে, ট্রুডোকে শীতল অভ্যর্থনা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে তার অবস্থানে মোটেই খুশি নয় দিল্লি।
এরই মধ্যে, বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রুডো। তাদের মধ্যে কথা হয় রাজনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে।

