এ.বি.এম লুৎফর রাশিদ রানা, কিশোরগঞ্জ: ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকহানাদার বাহিনী ও এদেশীয় রাজাকার আলবদর আলশামস কর্তৃক দেশের বুদ্ধিজীবি ও নিরীহ মানুষদের পাক দোসররা নির্বিচারে হত্যা করে। পাক হানাদার বাহিনী মানবতা বিরোধী হত্যাযজ্ঞ সেই স্থানগুলি এখন ইতিহাসের নীরব সাক্ষী।
মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ১৯৭১ সনের ১৪ এপ্রিল ভৈরবের পানাউল্লারচরে পাকহানাদার বাহিনী বর্বর ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী চন্ডিবের, ভৈরবপুর, জগন্নাথপুর, কালিপুর, গোছামারা, জামালপুর, শিবপুর, কৃষ্টনগর, শম্ভুপুর, গাজিরটেক, কালিকাপ্রসাদ এসবকটি গ্রামের ৫ শতাধিক লোককে ধরে নিয়ে পাকহানাদার বাহিনী নির্বিচারে ব্রাশফায়ার করে তাদের হত্যা করে। পানাউল্লারচর এ বধ্যভূমি আজ ইতিহাসের সাক্ষী।
এদিকে ১৯৭১ সনের ২০ আগস্ট শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে আসা মানিকদী মসজিদে ২২ জন লোককে নিয়ে পাশের বেপারী বাড়ীর উঠানে একসাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে পাকাহানাদার বাহিনী বেয়নেট দিয়ে এলোপাথারী খুচিয়ে তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। মানিকদী মসজিদ আজও ইতিহাসে নীরব সাক্ষী। এদের মধ্য থেকে বেঁচে যাওয়া মানিকদী গ্রামের আঃ মান্নান নূরুল হক ও গোলাপ মিয়া আজও সেই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের স্মৃতি বহন করছে। পাকহানাদার বাহিনী এই তিনজনকেও নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ফেলে রেখে চলে যায়। তবে হানাদার বাহিনীর সেই নিষ্ঠুর বর্বরতায় আব্দুল মান্নান তখন থেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আর এখনও সে এ অবস্থায় বেঁচে আছেন। নূরুল ইসলাম ও গোলাপ মিয়ার বুকের বামপাশে একাধিক বেয়নেটের আঘাত আজ শুধু স্মৃতি। তারা সেই দিনে পাক দোসরদের হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বধ্যভূমিগুলো অরক্ষিত থাকলেও বর্তমান সরকার বধ্যভূমি গুলোতে শহীদদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংস্থা বধ্যভূমিগুলো পরিদর্শনে শতশত শহীদদের সংখ্যা নিরুপণের উদ্যোগও নিয়েছেন।

